মহররম

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:১৮
নীল সিয়া আসমান লালে লাল দুনিয়া - আম্মা লাল তেরী খুন কিয়া খুনিয়া, কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে? সে কাঁদনে আঁঁসু আনে সিমারের ও ছোঁরাতে। রুদ্র মাতম্ ওঠে দুনিয়া-দামেশ্ কে- “জয়নালে পরালো এ খুনিয়ারা বেশ কে?” ‘হায় হায় হোসেনা’, ওঠে রোল ঝঞ্ঝায়, তল্ ওয়ার কেঁপে ওঠে এজিদেরো পঞ্জায়! উন্ মাদ ‘দুল্ দুল্’ ছুটে ফেরে মদিনায়, আদি-জাদা হোসেনের দেখা হেথা যদি পায়! মা ফতেমা আস্ মানে কাঁদে খুলি কেশপাশ, বেটাদের লাশ নিয়ে বধূদের শ্বেতবাস! রণে যায় কাসিম ঐ দু’ঘড়ির নওশা, মেহেদীর রঙটুকু মুছে গেল সহসা! ‘হায় হায়’ কাঁদে বায় পূরবী ও দখিনা... ‘কঙ্কণ পঁইচি খুলে ফেল সকীনা!’ কাঁদে কে রে কোলে ক’রে কাসিমের কাটা-শির? খান্ খান্ হয়ে ক্ষরে বুক-ফাটা নীর! কেঁদে গেছে থামি’ হেথা মৃত্যু ও রুদ্র, বিশ্বের ব্যথা যেন বালিকা এ ক্ষুদ্র ! গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদে কচি মেয়ে ফাতিমা, “আম্মা গো পানি দাও ফেটে গেল ছাতি মা!” নিয়ে তৃষা সাহারার, দুনিয়ার হাহাকার, কারবালা-প্রান্তরে কাঁদে বাছা আহা কার! দুই হাত কাটা তবু শের-নর আব্বাস, পানি আনে মুখে, হাঁকে দুশ্ মনও ‘সাব্বাস্’! দ্রিম্ দ্রিম্ বাজে ঘন দুন্দুভি দামামা, হাঁকে বীর “শির দেগা, নেহি দেগা আমামা কলিজা কাবাব সম ভূনে মরু রোদ্দুর খাঁ খাঁ করে কারবালা নাই পানি খর্জ্জুর মার স্তনে দুধ নাই বাচ্চারা তড়পায় জিভ চুষে কচি জান থাকে কিরে ধড়টায়? দাউ দাউ জ্বলে শিরে কারবালা ভাষ্কর কাঁদে বানু পানি দেও মরে যাদু আসগর পেলনা তো পানি শিশু পিয়ে গেল কাঁচা খুন ডাকে মাতা 'পানি দেব ফিরে আয় বাছা শোন -’ পুত্র হীনা আর বিধবার কাঁদনে ছিড়ে আনে মমের্র বত্রিশ বাঁধনে তাম্বুতে সিজদায় কাঁদে একা জয়নাল দাদা তেরী ঘর কিয়া বরবাদ পয়মাল হায়দরী হাঁক হাঁকে দুল দুল আসওয়ার শমশের চমকায় দুশমনে ত্রাসবার খসে পড়ে হাত হতে শত্রুর তরবার ভাসে চোখে কিয়ামতে আল্লার দরবার। নিঃশ্বেষ দুশমন - ও কে রণশ্রান্ত ফোরাতের নীরে নেমে মুছে আখি প্রান্ত? কোথা বাবা আসগর শোকে বুক ঝাঁঝরা পানি দেখে হোসেনের ফেঁটে যায় পাঁজরা ধুঁকে ম’লো আহা তবু পানি এক কাতরা দেয়নি রে বাছাদের মুখে কম-জাতরা অঞ্জলি হতে পানি পড়ে গেল ঝর ঝর লূটে ভূমে মহাবাহু খন্জর জর্জর। হলকুমে হানে তেগ ওকে বসে ছাতিতে? আফতাব ছেয়ে গেল আধীয়ার রাতিতে! আসমান ভরে গেল গোধূলীতে দুপুরে লাল নীল খুন ঝরে ফোরাতের উপরে বেটাদের লহুরাঙ্গা পীরহান হাতে আহ্ আরশের পায়া ধরে কাঁদে মাতা ফাতেমা এয়্ খোদা বদলাতে বেটাদের রক্তের মার্জনা কর গোনা পাপী কম বখতের ! কত মহররম এল গেল চলে গেল বহু কাল ভুলিনি গো আজো সেই শহীদের লহু-লাল মুসলিম তোরা আজ জয়নাল আবেদীন ওয়া হোসেনা ওয়া হোসেনা কেঁদে তাই যাবে দিন? ফিরে এল আজ সেই মহরম মাহিনা ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহিনা। উষ্ণীষ কোরআনের হাতে তেগ আরবীর দুনিয়াতে নত নয় মুসলিম কারো শির। (সংক্ষেপায়িত)