গ্রেফতার আর তদ্বির বাণিজ্য নিয়ে বেসামাল হয়ে পড়েছে হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ। হরিণাকুণ্ডু থানায় চাঞ্চল্যকর পুলিশ হত্যা মামলা, হরতালে ভাংচুর মামলা, বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হত্যা মামলা, সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের দোকান ভাংচুর মামলাসহ বেশ কিছু মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ব্যস্ত সময় পার করছে। কিন্তু আসামি ধরার পর স্থানীয় এমপির পিএস বা আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আটক আসামিদের ছাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে পুলিশের অবস্থা এখন শ্যাম রাখি না কুল রাখির মতো। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা চাপ দিচ্ছেন আসামি ধরার জন্য, আবার ধরলে প্রভাব খাটানো হচ্ছে আটক আসামি ছাড়িয়ে নিতে। হরিণাকুণ্ডু থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, উপজেলার নিচতোলা গ্রামের আসলাম নামে এক আসামিকে পুলিশ আটক করলে এমপির পিএস পরিচয় দিয়ে সেই আসামিকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়। পারফলসী গ্রামের মামুন নামে এক আসামিকে আটক করলে তাকেও ছাড়িয়ে নেয়া হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে দুই আসামির পরিবারের কাছ থেকে কথিত পিএস ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। উপজেলার রথখোলা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে জহিরকে পুলিশ আটক করলে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। হরিণাকুণ্ডু শহরের সলিমুদ্দীন ও চটকাবাড়িয়া গ্রামের আশাফুলকে আটকের নামে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। গ্রেফতার ও ছাড়া বাণিজ্য নিয়ে হরিণাকুণ্ডু পুলিশ প্রশাসন এখন বেসামাল। কিছু পুলিশ কর্মকর্তাও এই সুযোগে অর্থ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছেন বলে কথিত আছে। হরিণাকুণ্ডু থানায় দায়ের হওয়া মামলায় হাজার হাজার মানুষ আসামি। তাই বাণিজ্য করার ফাঁকফোকরও বেশি। উপজেলা জুড়ে মানুষ ভুগছেন গ্রেফতার আতংকে । বাড়িতে কেউ ঘুমাতে পারে না। গ্রামে গ্রামে সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসলেও পরিত্রাণের কোন পথ খুঁজে পাচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসনের অবস্থা এখন ‘সাপ হয়ে দংশন করো, আর ওঝা হয়ে ঝাড়’ প্রবাদ বাক্যের মতো। একদিকে একেরপর এক মামলায় কাবু বিএনপি জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার করতে পুলিশকে চাপ দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রভাব খাটিয়ে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের ছাড়াতে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ সব মামলায় কিছু কিছু সরকারী দলের নেতাকর্মীরাও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার ২/৪জন আসামি গ্রেফতার হচ্ছে। এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিবুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও পুলিশ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
