ইসির আচরণবিধি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:১০
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে ধরনের আচরণ করছে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বিরাট বাধা বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, কমিশনের চূড়ান্ত করা আচরণবিধি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে তিনি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যে কোনো প্রয়োজনে ক্ষমতা ব্যবহারে অনিচ্ছা ও অপারগতা প্রকাশ, আচরণবিধি ও আরপিও সংশোধন, সরকারি দলের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যবস্থা না নেয়াসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে কমিশনের (ইসি) সমালোচনা করেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘নির্বাচনী আইন সংস্কার:আমরা কোথায়?’ শীর্ষক আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের ২০০৮ সালের আচরণবিধি ও গত বুধবার চূড়ান্ত হওয়া আচরণবিধি প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিদ্যমান আচরণবিধির তুলনায় নতুন আচরণবিধিতে ‘নির্বাচন-পূর্ব সময়ের’ পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে কোনো অজ্ঞাত কারণে নিজের ক্ষমতাই খর্ব করেছে কমিশন। সুজনের সম্পাদক বলেন, গত ২৭ অক্টোবর থেকে নির্বাচনকালীন সময়ের সূচনা হলেও ক্ষমতাসীন দল বিনা দ্বিধায় নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি ব্যয়ে ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছেন ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী জনসভা করে নিজ দলের পক্ষে ভোটও চাইছেন। নিঃসন্দেহে এসব কর্মকাণ্ড আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। সভাপতির বক্তব্যে মানবাধিকার কর্মী ও সুজনের নির্বাহী সদস্য হামিদা হোসেন বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচন হয় নাগরিকদের জন্য। আর বাংলাদেশে দুটি দলের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। এ লড়াইয়ে রেফারিও থাকছে না। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-প্রধান সমন্বয়কারী ড. দিলীপ কুমার সরকার, নির্বাহী সদস্য ড. জালাল উদ্দিন প্রমুখ।