চীনের এক সন্তান নীতির পরিবর্তন

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৫৩
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তাহব্যাপী সম্মেলন থেকে বেশ কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘এক সন্তান নীতি’ পরিবর্তন হচ্ছে অন্যতম। ভবিষ্যতে যেসব দম্পতি দু’টি সন্তান নিতে চাইবেন তাদের যেকোনো একজনকে হতে হবে তাদের বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ কথা জানিয়েছে। এ সপ্তাহে শীর্ষ কমিউনিস্ট পার্টির একটি বৈঠকের পর সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়াও শ্রমশিবির বন্ধ করে দেয়াসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালায় ব্যাপক সংস্কার করার ঘোষণা দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এক সন্তান নীতি শিথিল করার ঘোষণার পর বেইজিংয়ের জনসাধারণ বিভিন্নভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন যুবক বলছেন,“নতুন এই সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। আমি পুরনো নীতির সাথে একেবারই একমত ছিলাম না। আমি একটি ছেলে সন্তানের পাশাপাশি একটি মেয়ে সন্তানও চাই। বেশিরভাগ পরিবারই এখন দুটো সন্তান চায়”। তবে একজন বৃদ্ধ বলছেন,“পুরনো নীতিটিই ভালো ছিল। আমাদের দেশের জনসংখ্যা এক বিলিয়নের উপরে। আমরা যদি এখন দুটো সন্তান নেয়াটা সমর্থন করি তাহলে খুব তাড়াতাড়ি দেশের জনসংখ্যা ২ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। আমি পুরনো নীতিতেই থাকতে চাই”। অন্যদিকে এক দম্পতি বলছেন,“আমাদের মনে হয় এই নতুন নীতিটাই ভালো। আমরা সন্তান নেয়ার কথা ভাবছি। আমাদের কাছে মনে হয় একজন সন্তান যদি থাকে তাহলে তার উপর পরিবারের অনেক চাপ এসে পড়ে। তাকে দুটো পরিবারের বৃদ্ধ লোকদের দেখতে হয়। কিন্তু দুটি সন্তান যদি থাকে তাহলে তারা দু’জনে মিলেই পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে পারবে। আর দুটি সন্তান থাকলে তারা একে অপরের ভালো বন্ধুও হয়ে উঠতে পারে”। চীনে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির হার কমাতে ১৯৭০ সাল থেকে এক সন্তান নীতি চালু করে দেশটির সরকার। সংস্কার পরিকল্পনার আওতায় আরো যা থাকছে তা হলো, কৃষকদের সম্পত্তির অধিকার বাড়বে তাদের জমির ওপর, সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো আরো স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক ব্যবস্থা চালু হবে।