রোনালদোর গোলে পর্তুগালের জয়

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৩, ২২:১৪
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ৮১ মিনিটের দুর্দান্ত হেডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে¬-অফে প্রথম লেগে গত শুক্রবার রাতে সুইডেনকে ১-০ গোলে হারিয়ে পর্তুগালের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সম্ভাবনা বাড়লো। অপরদিকে ইউক্রেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কায় পড়েছে ফ্রান্স। এছাড়া রোমানিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের সহজ জয় দিয়ে আগামী বছরের ব্রাজিল বিশ্বকাপের পথে বেশ অনেকটা এগিয়ে গেছে সাবেক ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন গ্রীস। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে প্রথমবারের মত কোন ছোট ফুটবল খেলুড়ে দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের খেলার কৃতিত্ব এখন অনেকটাই ম্ল¬ান হয়ে গেছে আইসল্যান্ডের। রোনালদো ও জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচের মধ্যকার লড়াইয়ে লিসবন স্টেডিয়ামে শেষ হাসি হাসেন পর্তুগীজ উইঙ্গার। খেলা শেষের নয় মিনিট আগে ডি-বক্সের ছয় গজ দূর থেকে মিগুয়েল ভেলেসোর বাম উইংয়ের ক্রসকে দারুণভাবে মাথা ছুঁইয়ে জয়সূচক গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে এটি রোনালদোর ১০৮ ম্যাচে ৪৪তম এবং চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে এটি রোনালদোর ২৯তম গোল । আর মাত্র তিনটি গোল করলেই পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলের মালিক পউলেতোর পাশে নিজের নাম লেখাবেন। তবে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে রোনালদোর আরেকটি হেড ক্রসবারের একটু উপর দিয়ে বাইরে চলে না গেলে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারতো। এদিন শুরু থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করে খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। কোচ পাওলো বেনতোর দলটি পুরো ম্যাচে ৬৮ শতাংশ বলের দখল রাখে নিজেদের পায়ে। সুইডেনের কোচ এরিক হামরেন পর্তুগালের মাঠে যে স্বাগতিকদের হারানো সহজ নয় তা মানছেন । তিনি বলেন, ‘আমরা এই ম্যাচে ড্র করতে পারলেই খুশি হতাম। আমরা রক্ষণাত্মকভাবে দারুণ খেলেছি। গোলটি হওয়া উচিত ছিল না। আমাদের অসাবধানতার জন্য গোলটা হয়েছে।’ পর্তুগাল কোচও এই জয়ে বিশ্বকাপের টিকিট যে নিশ্চিত হয়েছে এমনটা মানছেন না। বেনতো বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই সুযোগ তৈরি করেছি এবং তারা পাল্টা আক্রমণ করেছে। এই জয় আমাদের জন্য একটি পদক্ষেপ। তবে এখনো বিশ্বকাপের আমাদের খেলা নিশ্চিত হয়ে যায়নি।’ তবে স্টোকহোমে মঙ্গলবার ঘরের মাঠে ইব্রাহিমোভিচের সুইডেনকে হারিয়ে ব্রাজিলের টিকেট নিশ্চিত করা যে খুব একটা সহজ নয় তা পর্তুগীজরা বুঝতে পারছে। জয়ের পরে উচ্ছ্বসিত রোনালদো বলেন, ‘এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ গোল ছিল যা আমাদের জয় এনে দিয়েছে। আমাদের অবশ্য আরো একটি বা দুটি গোল পাওয়া উচিত ছিল যা আমরা নষ্ট করেছি। তবে এই জয় দ্বিতীয় লেগে আমাদের আত্মবিশ্বাস যোগাবে। এখনো কোন কিছু নির্ধারিত হয়নি। এখনো দুই দলেরই চূড়ান্ত পর্বে খেলার সম্ভাবনা আছে।’ ইউক্রেনের কিভে গতকাল পরাজয়ের পরে আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সকে প্যারিসে ঘরের মাঠে অন্তত ৩-০ ব্যবধানে জয় পেতে হবে। না হলে গত দুই দশকে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়বে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। কিভের ৭০ হাজার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন অলিম্পিক স্টেডিয়ামে রোমান জোজুলিয়ার গোলে ৬১ মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিক ইউক্রেন। ম্যাচ শেষে আট মিনিট আগে পেনাল্টি থেকে দলকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন আন্দ্রি ইয়ারমোলেনকো। ইনজুরি টাইমে ইউক্রেনিয়ার ডিফেন্ডার ওলেকসানডার কুচারের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়লে ফ্রান্সের আর্সেনাল ডিফেন্ডার কোসিয়েনলিকে লাল কার্ড দেখানো হয়। তবে পরবর্তীতে দুটি হলুদ কার্ড পাওয়ায় কুচারকেও মাঠ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে হয়েছিল। এই জয়ে ঘরের মাঠে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে এবং ফ্রান্সকে একটি গোলও করতে না দিয়ে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে সুস্পষ্ট ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে ইউক্রেন। তবে ম্যাচ শেষে ফ্রান্স গোলরক্ষক ও অধিনায়ক হুগো লোরিস বলেছেন, ‘আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর মত যথেষ্ট শক্তি আমাদের মধ্যে রয়েছে।’ পিরাসে গ্রীস তাদের ঘরের মাঠে অলিম্পিয়াকোসের স্ট্রাইকার কোস্টাস মিট্রোগে¬ার দুই গোলে সফরকারী রোমানিয়াকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। মঙ্গলবারের দ্বিতীয় লেগের খেলার আগে তারা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছে। গ্রীসের কারায়িসাকিস স্টেডিয়ামে পরিপূর্ণ ৩২ হাজার দর্শকের মাঝে কাল ম্যাচটি উপভোগ করতে স্বয়ং গ্রীক রাষ্ট্রপতি কারোলোস পাপোলিয়াসও উপস্থিত ছিলেন।