দিনাজপুরের ফুলবাড়ি রেলস্টেশনে দুইটি আন্তঃনগর ট্রেনের মুখোমুখি সংঘষর্, ঘটনায় গঠিত রেলওয়ের মাঠ পর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি পাঁচজনকে দায়ী করে তদন্ত রিপোর্ট গত শুক্রবার রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহীর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এর কাছে জমা দিয়েছেন। তদন্ত রিপোর্টে যাদের দায়ী করা হয়েছে তারা হলেন, ফুলবাড়ি রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল হামিদ, পয়েন্টসম্যান ইউনুছ আলী, আন্তঃনগর একতা ট্রেনের চালক আব্দুল করিম, সহকারি চালক শরিফুল ইসলাম ও পরিচালক (গার্ড) আজিজুর রহমান। এদের মধ্যে পয়েন্টসম্যান ইউনুছ আলী ছাড়া অন্য চারজনকে ১২ নভেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এদিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও গত ১৫ নভেম্বর রেলস্টেশনে সরেজমিনে পরিদর্শনসহ তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। তদন্ত কমিটির কাছে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, স্টেশনের লাইন ক্লিয়ার থেকে শুরু করে ঘন্টা পেটানো এবং সিগনাল দেয়ার কাজ করানো হয় স্টেশনের বুট, বাদাম ওয়ালাদের দিয়ে। স্টেশন মাস্টার প্রায়ই স্টেশন ছেড়ে চলে যান নিজ বাড়িতে আর পয়েন্টসম্যানেরা সার্বক্ষণিক মেতে থাকেন তাস খেলা নিয়ে। ট্রেনের টিকিটও বিক্রি হয় পানবিড়ির দোকানে। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রায়হান উদ্দিন বলেন, পাকশী ডিভিশনের বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনের ইঞ্জিন দুইটি মেরামত করে সচল করা হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহী’র মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফেরদৌস আলম বলেন, রেলওয়ের মাঠ পর্যায়ের গঠিত তদন্ত কমিটি পাকশী-২ ডিভিশনের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা সুজিত কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এতে সাময়িক বরখাস্তকৃত চারজনের সাথে স্টেশনের পয়েন্টসম্যানকেও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে।
