সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমনের দাবি

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪৩
সামপ্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করার দাবি জানিয়েছে সামপ্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়। সম্প্রতি পাবনার সাঁথিয়া ও শনিবার বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়ার কালীখোলা গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চলমান রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দেশব্যাপী সামপ্রদায়িক সহিংসতার বিস্তার দেশবাসীর সাথে আমাদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলছে। গত এক মাসের মধ্যে লালমনিরহাট, পাবনার সাঁথিয়া এবং বরিশালে যেভাবে সামপ্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে তা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, আমাদের আশংকা, সমস্ত বিষয়টির মহল বিশেষের সচেতন পরিকল্পনারই অংশ। বক্তারা আরো বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের যে বিচার চলছে তা যারা ব্যাহত করতে চায় তারাই সচেতনভাবে নানা অজুহাতে এই সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে। আবার এই কাজে তারা সুযোগ নিচ্ছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবির, হেফাজতের উদ্যোগে যে সহিংসতা চলছে চলমান সামপ্রদায়িক সহিংসতা তারই অনুষঙ্গ। কর্মসূচিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল, অজয় রায়, ড. নূর মো: তালুকদার, পংকজ ভট্টাচার্য প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, পাবনা, লালমনিরহাট ও বরিশালে হিন্দু সমপ্রদায়ের ওপর দফায় দফায় সামপ্রদায়িক হামলা হয়েছে। কখনো খেলার নামে, কখনো ফেসবুককে ইস্যু করে সামপ্রদায়িক সহিংসতা ছড়ানো হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সুলতানা কামাল বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে এভাবে হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হবে এটা আমরা ভাবতে পারি না। তিনি বলেন, আমরা কোনভাবেই সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্ট হতে দিতে পারি না। সকলে ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান তিনি। পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ৮৮/৯০ সালে আমরা যেভাবে প্রশাসন এবং পুলিশকে অন্যায় দেখেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। এবারও তা দেখলাম। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্র কারো একার নয়, রাষ্ট্র সবার। রাষ্ট্র ধর্মীয় সংখ্যালঘুবান্ধব নয় দাবি করে তিনি বলেন, অতীতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের বিচার হয়নি। তাই এভাবে একের পর এক সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে।