জনগণই ভাগ্য নির্ধারণ করে, কূটনীতিকরা নন

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪৬
প্রায়ই বিদেশি কূটনীতিকদের দাদাগিরি করতে দেখা যায়। কিন্তু অতীত বলে শেষ পর্যন্ত জনগণই ভাগ্য নির্ধারণ করে, কূটনীতিকরা নন। বিবিসি’র বাংলাদেশ সংলাপে প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ওয়াহিদ এ কথা বলেন। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকার বিয়াম অডিটোরিয়ামে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে প্যানেল সদস্য হিসেবে আরো ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ, দৈনিক দ্য নিউজ টুডে’র সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ। একই প্রশ্নের জবাবে রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতীয় হাই কমিশন বলেছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তারা আলোচনা করছে। এটা এক ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ। আমরা নিজেরা যদি পথ বের করতে না পারি তবে এক-এগারোর মতো ঘটনা আবারো ঘটবে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ বলেন, বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয় তখন অনেক দেশই তত্পরতা চালায়। সরকার উদ্যোগ না নিলে এ সংকটের সমাধান আপাতত হবে না। একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অনেকেরই এর ব্যাপারে মতামত থাকতে পারে। অতীতে যেহেতু আমরা এসব মতামত পরিহার করে থাকতে পারিনি, তাই এখন পরিহার করে চলাও কঠিন। এ সময় তিনি বলেন, এক-এগারোর মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আর নেই। কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়, নিজেরা চাইলেই সমাধান সম্ভব। হরতালের সময় মানুষ হত্যা ও সম্পদ বিনষ্টের দায় কার এমন এক প্রশ্নের জবাবে রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, দু’দলেরই দায়ভার রয়েছে। দুঃখ প্রকাশ করলে সরকার ও বিরোধীদল দুই পক্ষেরই করা উচিত। এটা মূলত অপরাজনীতির ফল। আসম হান্নান শাহ বলেন, হরতালকে কেন্দ্র করে মৃত্যুতে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর হাত রয়েছে। এ সময় এইচ টি ইমাম বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের চেয়ে সব ফুটেজগুলো দেখিয়ে দেয়া দরকার। এছাড়া সংলাপে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনের সংশোধনী নিয়েও আলোচকদের কাছে প্রশ্ন করা হয়।