২০১৪ সালের এসএসসির ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে- এমন অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত টাকার চেয়ে চার থেকে পাঁচগুণ টাকা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে হিমশিম খেতে হয়। ‘বাধ্য হয়েই বোর্ড নির্ধারিত নয়, স্কুল নির্ধারিত ফি’ দিতে হয়। কোন কোন অভিভাবক অভিযোগ করেন, স্কুল নির্ধারিত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে বা সময়মতো না দিলে কোনক্রমেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না- এমন নির্দেশনা দেয়া হয় স্কুল থেকে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ফরম পূরণে এক হাজার ১৪০ টাকা, কেন্দ্র ফি ২৫০ টাকাসহ মোট এক হাজার ৩৯০ টাকা; বিজ্ঞান শাখায় ফরম পূরণ এক হাজার ২৩০ টাকা, কেন্দ্র ফি ২৫০ টাকা- মোট এক হাজার ৪৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়; কিন্তু স্কুলের নোটিস বোর্ডে এমন কোন নির্দেশনা ছিল না। ফরম পূরণের সময় প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ৮/১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়।
এমন একটি নোটিস টানানো হয় রাজধানীর ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউটে। এই নোটিসে উল্লেখ করা হয়, ১০ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণ করা হবে। ‘বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ৫ হাজার ৫শ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পরীক্ষার্থীদের জন্য ৫ হাজার ৩৫০ টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে সোনালী ব্যাংক সদরঘাট কর্পোরেট শাখায় জমা দিয়ে রশিদের একটি কপি অফিস সহকারী প্রতিমা কর্মকারের নিকট দাখিল করে ফরম পূরণের নির্দেশ দেয়া হল।’
একই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। কোন খাতে কত টাকা আদায় করা হচ্ছে এমন কোন বিবরণী না দিয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৮ হাজার ৮শ, ব্যবসায় শিক্ষা পরীক্ষার্থীদের (যাদের কম্পিউটার শিক্ষা আছে) ৮ হাজার ৫৫০ টাকা ফরম পূরণের সময় পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। স্কুলের একাধিক অভিভাবক জানান, আমরা বোর্ডে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ফরম পূরণর ফি দেড় হাজারের বেশি নয়। অথচ মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৯ হাজার টাকা আদায় করেছে।
রাজধানীর ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের সময় ৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি আদায় করা অপরাধ; কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত নয়। শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি নিয়েই শিক্ষকদের বেতন দিতে হয়। এ কারণে ফরম পূরণের সময় একটু বেশি টাকা নেয়া হয়।
শুধু রাজধানী বা বিভাগীয় শহরেই নয়, মফস্বলের চিত্রও একই। গাজীপুরের কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ফরম পূরণে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, বাধ্যতামূলক কোচিং ফি ২ হাজার টাকাসহ মোট ৩ হাজার ৮৫০ টাকা, হরিমুঞ্জুরী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণ ফি ১ হাজার ৮৫৫, কোচিং ফি ১ হাজার ৩শসহ মোট ৩ হাজার একশ ৫৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানিয়েছেন, ফরম পূরণের সময় স্কুল ও মসজিদ উন্নয়ন, যাতায়াত, পানি, বিদ্যুত্ ফি নেয়া হচ্ছে।
অভিভাবকরা জানান, এসএসসি ও এইচএসসি ফরম পূরণের সময় প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়; কিন্তু শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অতিরিক্ত ফি আদায়ে গভর্নিং বডি জড়িত থাকে বলে তারা অভিযোগ করেন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বোর্ড নির্ধারিত ফি আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে; কিন্তু বোর্ডের এ সিদ্ধান্তকে অমান্য করে প্রতিবছরই অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করলেও ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বোর্ড কার্যত কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শাহেদুল খবীর চৌধুরী বলেন, স্কুলগুলোকে বোর্ড নির্ধারিত ফি আদায় করতে হবে। তবে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে এমন কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
