শচিনের সঙ্গে যাত্রাটা ছিল অসাধারণ :সৌরভ

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৫
মাত্র ১৪ বছর বয়সে দু’জনের প্রথম পরিচয়। এরপর জীবনের প্রায় অর্ধেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও শচিন টেডুলকার আর সৌরভ গাঙ্গুলির সেই বন্ধুত্ব এখনো অটুট। দু’জনেই যখন ছিলেন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে, বোলারদের মনে ত্রাস সৃষ্টিকারী এক উদ্বোধনী জুটিই ছিলেন তারা। বেশ কয়েক বছর আগেই অবসরে যাওয়া সৌরভ এখন ব্যস্ত টিভির পর্দায় আর ধারাভাষ্য কক্ষে। অন্যদিকে চব্বিশ বছরের অবিস্মরণীয় এক যাত্রা শেষে শচিন তার ক্যারিয়ারের ছেদ টেনেছেন মাত্রই। এনডিটিভির সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে সদ্য সাবেক এই বন্ধুর সঙ্গে মাঠ আর মাঠের বাইরের নানা মজার স্মৃতি রোমন্থন করেছেন বাঙ্গালি বাবু। কেনিয়ায় দু’জনের কুমিরের মাংস খাওয়া থেকে শুরু করে শচিনের বাংলা শেখার চেষ্টা; সবই ছিল সেখানে। সেই সাক্ষাত্কারের অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো পাঠকের জন্য। তুলনা ক্রীড়াঙ্গনের আইকনদের মধ্যে কেবল ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গেই আমি শচিনের তুলনা করতে রাজি। ম্যারাডোনা আমার প্রিয় এবং শচিনও তাই। দু’জনেই বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী। শচিনের বাংলা শেখা প্রসঙ্গে আমি শচিনকে বাংলা শেখানোর চেষ্টা করেছি। তবে এটা আসলেই কাজে দেয়নি। আমি শচিনকে অনুরোধ করেছি বাংলা বলার চেষ্টা আর না করতে। এক্ষেত্রে তার অবস্থা আসলেই শোচনীয়! শচিনের অবসর কোন সন্দেহ নেই দারুণ আবেগের একটি মুহূর্ত এটি। আমি আসলে ভিভিএস লক্ষণকে কাঁদতে দেখেছি, তার চোখে পানি জমে ছিল। আর যে সম্মান (দর্শকদের কাছ থেকে) শচিন পেয়েছে, এটা আসলেই সবাইকেই ছুঁয়ে গেছে। তবে এটাও সত্যি, তার মতো দারুণ প্রতিভাবান এবং মহান ব্যক্তিদের এমন কিছুই প্রাপ্য। ক্রিকেটে কেমন প্রভাব ফেলবে এদেশে ক্রিকেট সবসময়ই বিশেষ কিছু, তবে মুম্বাই’র মানুষেরা খেলাটির মানকে অন্য মাত্রায় তুলে নিয়েছে। যেমন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেও দর্শকদের করতালির সিংহভাগই এসেছে শচিন, প্রজ্ঞান ওঝা এবং রোহিত শর্মার জন্য। ভারতীয় ক্রিকেটের ভিত্তিভূমিই এখন অনেক শক্ত। শচিনের বিদায়ী ভাষণ রাহুল দ্রাবিড় এবং ভিভিএস লক্ষণের পাশাপাশি আমার নামও সে এখানে উচ্চারণ করেছে। এটা আমাদের জন্য সত্যি সত্যিই ছিল গর্ব করার মতো একটি বিষয়। কারণ, আমরা সবাই একসাথেই ক্রিকেট খেলেছি এবং এতদিন পরে এসে মনে হচ্ছে ওটা আসলেই বিশেষ কিছু ছিল। আমরা নিজেদের পরিবারের চেয়েও বেশি সময় একসাথে কাটিয়েছি। আপনি কখনোই কেবল সংখ্যা, রান বা রেকর্ডের জন্য ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন না। ভারতীয় ক্রিকেটের দারুণ সুখের একটা সময়েই আমরা সবাই একসাথে ছিলাম। আর যাত্রার পুরোটা পথই ছিল অসাধারণ। শচিন তার ভাষণে আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করেছে। এর অংশ হতে পারাটাও ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।