কলকাতার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামের ভিআইপি গেটের সামনে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ক্যামেরাসহ গোটা বিশেক টিভি ইউনিট। আছেন জনা ত্রিশেক রিপোর্টার। সবাই অপেক্ষা করছেন পঞ্চকন্যার জন্য। সেই অপেক্ষায় প্রথম ছেদ ফেলেন অভিনেত্রী মৌসুমী চ্যাটার্জি। ভেতরে ঢোকার আগে বলেন, ‘আমি বাংলার মেয়ে হয়ে ধন্য।’ একটু পরই এলেন কোয়েল মল্লিক, বাবা রঞ্জিত মল্লিককে সাথে নিয়ে। তিনি বিশেষ কিছু বলতে চাইলেন না। তবে সাংবাদিকরা ঘিরে ধরায় বলতে বাধ্য হলেন। হাঁটতে হাঁটতেই বললেন, ‘এটা আমার অনেক বড় পাওনা। যাদের সাথে এক কাতারে সম্মান দেওয়া হচ্ছে আমাকে, তা সত্যিই অভাবনীয়।’
এরপরের অপেক্ষাটুকু ঘণ্টাখানেকের। একদম গেটের সামনে এসে থামল একটি মার্সেডিজ বেঞ্জ। লাল শাড়িতে অনিন্দ্য সুন্দরী সুস্মিতা নেমে এলেন স্মিত হাসি মুখে নিয়ে। শুনেছিলাম সুস্মিতা খুব একটা মিডিয়া ফ্রেন্ডলি নন। কিন্তু অবাক করে দিয়ে নিজেই এগিয়ে এলেন সাংবাদিকদের দিকে। বললেন, ‘আজকে কী বলে ধন্যবাদ দেব কলকাতাকে আমি জানি না। আমার সত্যিই বলার কোনো ভাষা নেই।’
তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, সমাপনী দিনের বিকেলে সায়েন্স সিটি অডিটরিয়ামের অর্ধেকই খালি! মুখ বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত তড়িঘড়ি করে ডেকে আনা হলো কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের শিক্ষার্থীদের। তাই এই নিয়ে কলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক ‘এই সময়’সহ একাধিক মিডিয়া এ ঘটনাকে আয়োজকদের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সুস্মিতা সেনের চকচকে রুপালি রঙের মার্সেডিজে চড়ে এলেন বিপস, তথা বিপাশা বসু। তিনি বললেন, পরীক্ষার আগের রাতে যেমন টেনশন হয়, আজ আমার তাই হচ্ছে। কারণ এই প্রথম আমার বাবাকে সাথে নিয়ে চলচ্চিত্রের কোনো অনুষ্ঠানে এসেছি।
এবার রানির পালা। তার দেখা নেই। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। উপস্থাপক শুরুতেই মঞ্চে ডেকে নেন একে একে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়, সুস্মিতা সেন, বিপাশা বসু ও কোয়েল মল্লিককে। জানানো হয় একটু পরেই আসবেন রানি। ১৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের সমাপনী আসরে বাংলার এই পঞ্চকন্যাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা। সবাইকে নিয়ে মঞ্চে বসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সাদা শাড়ি আর চপ্পল পায়ে নিজেই দেখভাল করছেন সবকিছু। প্রথমেই উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় মৌসুমী চ্যাটার্জিকে। একে একে সুস্মিতা, বিপাশা, কোয়েলকে সম্মাননা উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। ততক্ষণে মঞ্চে এসেছেন রানি মুখার্জিও। সম্মাননা দেওয়া হয় তাকেও। এরপরের অংশটুকু আসলে বাংলাদেশের। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের একমাত্র অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে এশিয়ান সিলেক্ট ক্যাটাগরিতে। এশিয়ার নয়টি সিনেমার মধ্যে থেকে নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’। তবে গ্রুপ ফটোশুটে পুরস্কৃত পঞ্চকন্যার সাথে আমাদের অভিনেত্রী তিশার ছবিটি থাকলেও আনন্দবাজার, আজকাল ও এইসময় পত্রিকা থেকে শুরু করে সবকটি পত্রিকায়ই গ্রুপ ছবিটি থেকে তিশার ছবিটি বাদ দিয়েই ছাপে। এমনকি দৈনিক এই সময়সহ বেশক’টি পত্রিকার রিপোর্টে কলকাতা উত্সবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অংশটুকুও ছাপা হয়নি।
