প্লে-অফে তিউনিশিয়াকে বড়ো ব্যবধানে পরাজিত করেই ব্রাজিলের টিকিট নিশ্চিত করেছে ক্যামেরুন। নাইজেরিয়া এবং আইভরি কোস্টের সাথে আফ্রিকান অঞ্চলের তৃতীয় দল হিসেবে ব্রাজিলে খেলবে ক্যামেরুন। আফ্রিকার সিংহরা কোন আফ্রিকান দেশ হিসেবে টানা সপ্তমবারের মত বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে রেকর্ড গড়েছে।
এদিন তিউনেসিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত করার পথে মিডফিল্ডার জিন মাকোনের দ্বিতীয়ার্ধের জোড়া গোল সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। খেলা শুরুর চার মিনিটের মধ্যেই তিউনিশিয়ার রক্ষণ ভাগের ভুলের সুযোগে পিয়েরে ওয়েবো দলকে এগিয়ে দিতে ভুল করেননি।
তবে ৩০ মিনিটে বেঞ্জামিন মোকানজো যে গোল করে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন সেই গোলটি ছিল নিঃসন্দেহে ম্যাচের সেরা গোল। তিনজন ডিফেন্ডারের মধ্য দিয়ে জোরালো শটের এই গোলের পরপরই তিউনিশিয়া অনেকটাই খেই হারিয়ে ফেলে এবং ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্বাগতিকদের কাছে। কিন্তু এই গোলের পরে বেঞ্জামিনের অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং পরবর্তীতে জার্সি খুলে দর্শকদের মধ্যে উঠে যাওয়া এসবই তার বিরুদ্ধে রেফারিকে হলুদ কার্ড প্রদর্শনে বাধ্য করে। কিন্তু আফ্রিকার কোনো দেশে হিসেবে টানা সাতবার বিশ্বকাপের খেলা নিশ্চিত করার ম্যাচে ভূমিকা রাখতে পেরে এমন গোলের উদ্যাপন করা যেতেই পারে।
ম্যাচ শেষে ক্যামেরুনের মিডফিল্ডার স্টিফেন এমবিয়া বলেছেন, ‘আমরা সত্যিই দারুণ খুশী। গত কয়েক বছর আমরা বেশ কঠিন সময় পার করেছি। কিন্তু নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের ফল আজ আমরা পেয়েছি।’
পুরো ম্যাচে তিউনিশিয়া তেমন কোন উল্লেখযোগ্য আক্রমণই চালাতে পারেনি। রেডসে ঘরের মাঠে তারা যেভাবে ক্যামেরুনকে আটকে দিয়েছিল তাতে করে দ্বিতীয় লেগে বিস্ময়ের অপেক্ষায় ছিল অনেকেই। ডানদিক থেকে উইসেম বেন ইয়াহিয়ার একটি ফ্রি-কিক থেকে ম্যাচের একমাত্র গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল সফরকারীরা। কিন্তু অনেকটা ফাঁকায় দাঁড়ানো থাকলেও সায়াম বেন ইউসেফ গোল করতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে ক্যামেরুনের ডিফেন্ডার ড্যানি নোকেও বলেছেন, ‘এই জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। আমরা শুধুমাত্র গোলের দিকেই আজ গুরুত্ব দিয়েছি। বিশ্বকাপে খেলতে পারা আমাদের সব খেলোয়াড়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিউনিশিয়ান দলও ভাল। কিন্তু সেই দলে একজন মাত্র ম্যাচ উইনার খেলোয়াড় রয়েছেন।’
