হলের জানালার বাইরে হাল্কা কুয়াশার সাদা চাদর। আর শিশির পড়ার টপ টপ শব্দ জানিয়ে দেয় শীতের আগমনের কথা। আবহমান বাংলায় প্রতি বছর এভাবেই শীতের আগমন ঘটে। মৃদ ছন্দে ঝড়ে পড়া কুয়াশা, হিম শীতল বাতাস— এসব যেন শুধুই ঠান্ডার আভাস বহন করে।
সকালে সবারই দৃষ্টি আকাশ পানে। কবে একটু সূর্যি মামার দেখা পাওয়া যাবে সেই খোঁজেই যেন সবার মন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। আকাশের চাদর উচিয়ে দেখা দিল মিষ্টি এক ফালি রোদ। যার ঝলকানিতে সবারই মুখ যেন ভরে উঠলো। দৃষ্টি প্রসারিত হলো সামনের দিকে।
দেশের অন্যতম বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজ পাহাড়বেষ্টিত অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত এই ক্যাম্পাস প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত হয়। বছরের প্রতিটি দিনই এখানকার শিক্ষার্থীরা থাকে প্রাণচাঞ্চল্যতার মাঝে। শীত আসে ক্যাম্পাস জীবনে কনকনে উত্তরের হাওয়া ও ঝরাপাতা এবং হরেক রকম পাখির গান শুনিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও শীত উপভোগ করার চেষ্টা করেন।
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান ইকবাল বকুল বলেন, ‘শীতের মিষ্টি রোদে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার মজাই আলাদা। আর শহীদ মিনারে বিকেলে মজার মজার ভাপা পিঠা খেতে খেতে গল্প জমানোর তো কোনো জুড়িই নেই।’
শীতের সকালে সবচেয়ে কষ্টদায়ক ব্যাপার সকালের ক্লাস। অনেকেরই সকাল ৭টার শাটল ট্রেন ধরতে ৬টায় ঘুম থেকে উঠতে হয়। বিশেষ করে যাদের শাটলে চড়ে প্রতিদিনই ক্যামপাসে আসতে হয়। চট্টগ্রাম নগরী থেকে ট্রেনে করে প্রতিদিনই ক্লাসে আসেন হিমু, শিরিন, ইপশিতা, হাসানসহ আরো অনেকে।
আকলিমা জান্নাত বলেন, যারা হলে থাকি শীতকাল এলেই ছেলেদের তুলনায় আমরা যেন বেশী আরাম প্রিয় হয়ে যাই। অলসতা আমাদের যেন জেঁকে বসে। তবে রাতের বেলা চা খাওয়া আর লেপমুড়ি দিয়ে পড়া যেন সত্যি পরম আনন্দের ব্যাপার। অনেকে আবার লেপের ভিতরে বন্ধু বা প্রিয়জনের সাথে কথা বলে রাতের অর্ধেক সময় পার করে দেয়।
শীত এলে অনেকে আবার প্রিয় বন্ধুদের নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে দেশকে জানার জন্য দেশের এপ্রান্ত হতে ওপ্রান্ত পর্যন্ত। এতে আনন্দের পাশেই জায়গা করে নেয় শিক্ষার অপার সুযোগ। এসব কিছুর মাঝে ক্যামপাসে প্রতি বছর শীত আসে প্রকৃতির ডাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়, ‘দুয়ারে আসিছে শীত; বরি লও তারে...।’
