অভিনয়ের প্রতি আলাদা একটা ভালোবাসা তৈরি হয়েছে তিথির মনে।
তাই ভালো ভালো চরিত্রে অভিনয়তেই পছন্দ করেন। এরই মধ্যে নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের
যোগ্যতারও প্রমাণ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাবলীল উপস্থাপনার জন্য আলোচনায় এসেছেন।
অভিনয়প্রেমী এই তরুণীকে নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতি ছোটবেলা থেকেই দারুণ ভালোলাগা ছিল তার। তাই তো নাচের সাথে সখ্যতা গড়েছিলেন। ব্যাংকার হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কলকাতার বিবেকানন্দ পৈলান ওয়ার্ল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিবিএ পড়তে গিয়েছিলেন কবির তিথি। ছয় মাস না যেতেই পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে। বিষয় পরিবর্তন করে তিনি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। একই সময়ে শান্তি নিকেতন থেকে নৃত্যে (ভরতনাট্যম) সাড়ে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কোর্সও সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশে ফিরে নৃত্য নিয়েই ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা নিয়ে এগোচ্ছিলেন। গত মে মাসে নাচ করতে গিয়েই পরিচয় হয় পরিচালক শাহজাদা মামুনের সাথে। এর কিছুদিনের মধ্যেই শাহজাদা মামুন ‘অন্যপক্ষ’ নামে একটি নাটকে কাজ করার প্রস্তাব দিলে রাজি হয়ে যান তিথি। এই নাটকের শুটিং চলাকালেই পরিচালক আশরাফী মিঠু কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে ‘ঘরে বাইরে’ নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। নাটক দু’টিতে কাজ করে অভিনয়ের প্রতি একটি মোহ তৈরি হয়ে তিথির। তিনি বলেন, ‘নাচ নিয়ে কিছু একটা করার পরিকল্পনা নিয়েই আমি কলকাতা থেকে দেশে এসেছিলাম। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করতে পারলে লন্ডনে আপুর ওখানে চলে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু নাটক দুটির পর নিয়মিত মিডিয়ায় কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই।’ তার এই সিদ্ধান্ত যথার্থ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত মে মাসে শুরু করার পর থেকে এখন নিয়মিতই টিভি নাটকে দেখা যাচ্ছে তাকে। গত ঈদে ধারাবাহিকসহ বিভিন্ন চ্যানেলে তার ১২টি নাটক প্রচার হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—‘রাসায়নিক প্রেম’, ‘ভালোবাসার গল্প’, ‘একবিন্দু’, ‘চতুর্থ কোণ’, ‘বাঁধন’, ‘স্বেচ্ছা’, ‘একদিন হঠাত্ দেখা’ ইত্যাদি। ঈদের নাটকগুলো সম্পর্কে তিথি বলেন, ‘নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি এ কারণে যে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের প্রথিতযশা অনেক নির্মাতার সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। ‘রাসায়নিক প্রেম’ নাটকটি ছিল সাত পর্বের ঈদ ধারাবাহিক। এটি পরিচালনা করেছিলেন সালাউদ্দিন লাভলু। নাটকটি করতে গিয়ে তার কাছ থেকে নতুন নতুন অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।’ আশরাফী মিঠু পরিচালিত ‘ঘরে বাইরে’ ধারাবাহিকটি এখনও নিয়মিত প্রচার হচ্ছে দেশটিভিতে। এ ছাড়া এশিয়া টিভিতে প্রচার হচ্ছে ‘হেমন্তের শীত’। সম্প্রতি এনটিভিতে প্রচার হয়েছে তিথি অভিনীত এক ঘণ্টার নাটক ‘রোববার’, এটি পরিচালনা করেছেন অঞ্জন আইচ। নাটকটিতে সুবর্ণা মুস্তাফার মেয়ে চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। এ সম্পর্কে তিথি বলেন, ‘নাটকের গল্পে দেখা যায়, আমাদের মা-মেয়ের সংসার। ওখানে একজন ছেলের প্রবেশ। যার আচরণে আমরা মুগ্ধ। মনে মনে তার প্রতি আমার একধরনের ভালোবাসা জন্মে। কিন্তু এক রোববার আমাদের বিশ্বাস ভেঙে ছেলেটি বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে পালিয়ে যায়।’ আর এসএটিভিতে প্রচার হয়েছে তিথি অভিনীত প্রথম টেলিফিল্ম ‘অন্যপক্ষ’। একই চ্যানেলে চলতি মাসের ২২ তারিখে প্রচার হবে আশরাফী মিঠু পরিচালিত এক ঘণ্টার নাটক ‘বৃষ্টির জন্য কাঁদছি।’ অভিনয়ের বাইরে উপস্থাপক হিসেবেও সাবলীলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন তিথি। এনটিভিতে প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রচার হয় তার উপস্থাপনায় ‘ছুটির দিনের গান’ নামে একটি অনুষ্ঠান। এ ছাড়া কিছুদিন আগেই শেষ হলো তিথির উপস্থাপনায় দেশ টিভিতে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী সিনেমা এক্সপ্রেস’। উপস্থাপনা প্রসঙ্গে তিথি বলেন, ‘একুশে টেলিভিশনে ‘সন্ধ্যা আমার’ শিরোনামে একটি নৃত্যানুষ্ঠান করেছিলাম। ওখান থেকে কী একটা কাজে এনটিভিতে যাওয়ার পর তারা আমাকে উপস্থাপনার প্রস্তাব দেন। এর পর থেকে শুরু। অভিনয়ের মতো উপস্থাপনাও উপভোগ করছি বেশ।’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রসঙ্গে তিথি বলেন, ‘ইচ্ছে অবশ্যই আছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি ছবির অফারও পেয়েছি। তবে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই। কেননা একজন অভিনেত্রী ভালো একটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই দর্শক-হূদয়ে স্থায়ী হতে পারে।’
