কথার জাদুতে

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:২৮
নিজের স্বভাবসুলভ চঞ্চলতা, প্রতিভা আর তারুণ্যকে সঙ্গী করে পথ চলতে ভালোবাসেন রথী। অল্প সময়ে সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি মডেলিংয়ে ভালো পারফর্মেন্সের জন্য তিনি আলোচনায় এসেছেন। সেইসাথে নিজের নামের সাথে নায়িকা তকমাটাও লাগিয়েছেন। এই প্রতিভাময়ী তরুণীকে নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক ছোটবেলাতেই মনে স্বপ্ন আঁকেন মিডিয়ায় কাজ করবেন বলে। তাই নিজেকে গড়েছেন একটু একটু করে। মূল নাচের মাধ্যমেই মিডিয়াতে আসা। বগুড়ার ‘আমরা ক’জন শিল্পীগোষ্ঠী’ থেকে নাচের শুরু। ২০০৬ সালে ঢাকায় চলে আসেন। এরআগে ‘শাপলা কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি’র নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। মার্কস অল রাউন্ডার চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই রথীকে সবাই বেশি চেনেন। জীবনের প্রথম বড় প্রাপ্তি স্মরণ করতে গিয়ে রথী বলেন, ‘২০০৯ সালের কথা। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে লোক নৃত্যে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। সে বছর আমি সার্টিফিকেট, গোল্ড মেডেল এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। এটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম উপার্জন।’ এরইমধ্যে রথী নিজের নামের আগে নায়িকা তকমাটিও যুক্ত করেছেন। দেওয়ান নাজমুল পরিচালিত ‘সীমারেখা’ ছবির মাধ্যমে একজন নায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটবে তার। রথী সর্বপ্রথম বিজ্ঞাপনে কাজ করেন সনকমিত্র পরিচালিত ‘ওয়েস্টার্ন’ মোবাইল এবং ডিভিডির। এরপর সালিমার শাড়ির বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে আবিরা ব্যানার্জির নির্দেশনায় ইউরোকোলা ব্র্যান্ডের নতুন একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। নতুন বিজ্ঞাপনে কাজ করা প্রসঙ্গে রথী বলেন, ‘নতুন বিজ্ঞাপনটির কনসেপ্ট খুব চমত্কার। কাজটি করতে বেশ ভালো লেগেছে। বিজ্ঞাপনটিতে দর্শক নতুনত্ব পাবেন। দর্শকের অনেক ভালো লাগবে।’ খুব শিগগিরই বিটিভিসহ বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে বিজ্ঞাপনটির প্রচার শুরু হবে। এদিকে রথী চলচ্চিত্রে ‘রথী’ নামেই দর্শকের সামনে হাজির হবেন। তিনি তার নাম পরিবর্তন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। রথী বলেন, ‘আমার দাদার বাড়ি নওগাঁ। দাদার নাম কমর উদ্দিন মণ্ডল। তিনিই আমার ‘রথী’ নামটি রেখেছেন। দাদার দেওয়া নামটি পরিবর্তন করা হবে বিষয়টি পরিবারের কেউই ভালোভাবে মেনে নিতে পারছেন না। এ কারণেই আমি ‘রথী’ নামেই বড় পর্দায় হাজির হবো।’ বাংলাদেশ ও কলকাতা যৌথ পরিচালনায় রথী এবং ফাহিম অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘সীমারেখা’ ছবিটি আগামী বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এই ছবি পরিচালনা করেছেন দেওয়ান নাজমুল ও কলকাতার স্বপ্ন সাহা। মডেলিংয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনায় নিজেকে জড়ান রথী। বর্তমানে রথীর উপস্থাপনায় এনটিভিতে প্রচার হচ্ছে ‘প্রাণ ফ্রুটো মিউজিক ইউফোনি’ এবং মোহনা টিভিতে ‘আমিও গাইতে পারি’ অনুষ্ঠানটি। উপস্থাপনা কঠিন হলেও নিজের মেধা, যোগ্যতা দিয়ে নিজেকে তারকার আসনে বসিয়েছেন। তার এই সাফল্যের পেছনের রহস্য কী জানতে চাইলে রথী বলেন, ‘আমি প্রতিটি কাজ ভালোবেসেই করি। সেই সাথে প্রতিটি মানুষকে সম্মান করি এবং সময় মেনে চলি। এ সবকিছুর সমন্বয়েই আমার আজকের এই অবস্থানে আসা।’ বেশ কিছুদিন থেকে তিনি উপস্থাপনা করছেন। আর সরাসরি দর্শকের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকে বলে তিনি উপস্থাপনাকে উপভোগ করেন। একজন উপস্থাপকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কী? উত্তরে রথী বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে সবকিছু সুন্দরভাবে ম্যানেজ করাই হলো একজন উপস্থাপকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’ উপস্থাপনার আপনার কোন বিষয়টি আপনার ভালো লাগে? প্রশ্ন শুনে তিনি মৃদু হেসে বলেন, ‘আমি উপস্থাপনা করে অনেক সাড়া পাওয়া যায়। বিশেষ করে তরুণদের কাছ থেকে ইদানীং বেশ সাড়া পাচ্ছি।’ একজন উপস্থাপকের কী কী গুণ থাকতে হয়? জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমেই প্রয়োজন হয় উপস্থিত বুদ্ধির। এরপর সঠিক উচ্চারণ ও প্রতিটি বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে একজন উপস্থাপকের।’ রথী বর্তমানে মতিঝিল মডেল হাইস্কুলে পড়ছেন। এবার তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী। ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে রথী মৃদু হেসে বলেন, ‘আসলে স্বপ্ন তো সময়ের সাথে সাথে চেঞ্জ হয়। মডেলিং ও উপস্থাপনা চালিয়ে যাব। সেইসাথে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করব।’