গত শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে শুরু করে আজ অবধি উপমহাদেশের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম মান্না দে। কিংবদন্তি এই মহান কলাকার গত ২৪ অক্টোবর ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। সংগীতসাধক মান্না দে স্মরণে গত ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় চিটাগাং কালচারাল একাডেমির উদ্যোগে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য রাখেন শিল্পী মিহির নন্দী। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধের সময় গান করতাম, তখন বাংলাদেশি শিল্পীদের কলকাতায় পরিচিতি ছিল। তখন মান্না দে’র বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি, আমাদের গানের প্রতি আগ্রহ দেখেছি। আর কত ধরনের গান জানা থাকলে এমন মহান শিল্পী হয়ে ওঠেন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ মান্না দে। শুরুতে তিনি উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছেন। তিনি উচ্চাঙ্গ সংগীত জানতেন বলেই এই বাংলা গানের ধারাকে সমৃদ্ধি এনে দিতে পেরেছেন।’
সংগীত ও মান্না দে’র জীবন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল বলেন, ‘আমাদের প্রেমের, বেদনার, দ্রোহের সময়কার শিল্পী মান্না দে। তাকে শুনেই যৌবন কাটিয়েছি। তিনি বাংলা গানের জন্যে আজীবন গেয়ে গেছেন। এ দেশের মানুষের জন্য গেয়ে গেছেন। এ দেশের মানুষ সুর ও ছন্দের মধ্য দিয়ে যাপন করে। একজন রাখাল ক্লান্তির পর মাঠে বসে গান করে, একজন গাড়িয়াল কষ্টকর ও বিরক্তিকর খাটুনির পর গান গেয়ে ওঠেন। এই গান আমাদের জীবন যাপনকে সুর ও ছন্দে আবিষ্ট করে রাখে।
মান্না দে’কে নিবেদিত স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন অধ্যাপক আলেক্স আলীম।
আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসানের উপস্থাপনায় সংগীতানুষ্ঠানে মান্না দে’র গান পরিবেশন করেন শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ।
তিনি প্রায় ৩০টি গান পরিবেশন করেন। যেমন ‘আমি যামিনী তুমি শশী হে’, ‘হূদয়ের গান শিখেতো’, ‘জানি তোমার প্রেমের যোগ্য আমি তো নই’, ‘ক ফোটা চোখের জল’, ‘এ জীবনে যত ব্যথা পেয়েছি’, ‘যদি কাগজে লেখো নাম’, ‘কথা দাও আবার আসবে’, ‘সজনী গো যদি এলে’, ‘ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে’, ‘তোমার ওই হাসিতে’, ‘সুন্দরী গো দোহাই দোহাই’, ‘তুমি অনেক যত্ন করে’, ‘আবার হবেতো দেখা’, ‘কফি হাউসের সেইন আড্ডাটা আজ’, ‘সেই ঢাকা মেইল নেই তো আর’, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’, ‘যদি হিমালয় আলপসের সমস্ত জমাট বরফ’, ‘তুমি নিজের মুখে বললে’, ‘কি দেখলে তুমি আমাাতে’, ‘আমার একদিকে শুধু তুমি’, ‘এইতো সেদিন তুমি আমারে বোঝালে’, ‘ও কেন এতো সুন্দরী হলো’, ‘লাল মেহেদীর নকশা হাতে’, ‘বাজে গো বীণা’, ‘টাকডুম টাকডুম বাজে’, ‘সে আমার ছোট বোন’, ‘তীর ভাঙ্গা ঢেউ’, ‘রঙিনী কত মন’, ‘পৌষের কাছাকাছি রোদমাখা সেই দিন’ ও ‘এই দেশ এই দেশ আমার দেশ’ প্রভৃতি।
শিল্পীর সাথে বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন, বাঁশিতে জালাল আহমেদ, কিবোর্ডে গোলাম সাফা মিঠু, গিটারে শাহনেওয়াজ, তবলায় সাখাওয়াত, একোর্ডিয়ানে সৈয়দুল হক, পারকিউশনে ফারুক হোসেন।
