প্রগতিশীল কথাসাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের ১৬৬তম জন্মবার্ষিকী ছিল গত ১৩ নভেম্বর। এ উপলক্ষে অন্যান্যবারের মতো এবারও ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার লাহিনী পাড়ায় মীরের বসতভিটা আঙিনায় অনুষ্ঠিত হলো দু’দিনব্যাপি নানা কর্মসূচি।
আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, নাটক ও গ্রামীণ মেলা হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখোরিত হয়। প্রতিদিন সন্ধা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে উত্সবের কার্যক্রম। রাত বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে স্থানীয় সর্বস্তরের সব বয়সী নারী পুরুষের অংশগ্রহণও বাড়তে থাকে।
সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্য ও কর্মময় জীবনের ওপর প্রাজ্ঞ আলোচকের আলোচনা, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মঞ্চায়িত নাটক উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা ও মীর-ভক্তদের হূদয় ছুঁয়ে যায়।
প্রতিদিন প্রথম পর্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। দুই দিনের আলোচনায় অংশগ্রহন করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম রাহাতুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহমেদ, গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম মেম্বর বর্ষিয়ান রাজনীতিক আবদুল বারী জোয়ারদার, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. বদরুদ্দোজা, ফজলুল হক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু দাউদ, কুষ্টিয়া আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন প্রমুখ।
প্রতিদিন দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক মঞ্চায়িত হয়। কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও লাহিনীপাড়ার লুপ্তসুপ্ত সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পীবৃন্দ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশ করে। গান পরিবেশন করেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সুজন রহমান, এসএম টিপু সুলতান, কোহিনুর আলম, আশরাফুননাহার, দিনু, মৌ, লাকি, রুপম, সুমন, আমিনুজ্জামান, আব্বাস খন্দকার, রোজা, বিল্লাল, নাসিমা প্রমুখ। নৃত্য পরিবেশন করেন বাদল, ঐশি, রুমি, সৃষ্টি। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়েছেন ইমতিয়াজ দিপু, বাপ্পি ও শহিদ।
