ফেডারেশন কাপ ফুটবল শুরু আজ

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪২
লিগ হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মঞ্চ। লিগে হোঁচট খেলে, সেখান থেকে লড়াইয়ে ফিরে আসা কঠিন। সেজন্য প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট খেলে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ থাকে। একই সাথে ভুলগুলো মেরামত করার সুযোগ পাওয়া যায়। নতুন করে পরিকল্পনা সাজানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজে বের করারও পথ দেখা যায়। এসব কারণেই লিগের ফেডারেশন কাপ নামের টুর্নামেন্ট নিয়ে শুরু হয় ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম। ফেডারেশন কাপ টুর্নামেন্ট নিয়ে পেশাদার ফুটবল লিগ শুরু হচ্ছে আজ। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকাল পৌনে চারটায় আবাহনী ও রহমতগঞ্জ ম্যাচের মধ্য দিয়ে মাঠে গড়াবে খেলা। তবে সন্ধ্যা ছয়টায় শেখ জামাল এবং উত্তর বারিধারার ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবে। কয়েক জন ফুটবলার দুই ক্লাব থেকে আগাম পারিশ্রমিক নিয়ে জটিলতায় ফেলে দিয়েছিল মৌসুমটিকে। যে কারণে খেলাটা মাঠে গড়াতে সময় লেগে গেল। তা না হলে ক্লাবগুলো টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বিদেশি খেলোয়াড়দের মান যাচাই করে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারতো। সেটা হলো না। মোহামেডান শেখ রাসেলের জন্যই অন্য ক্লাবগুলোর ভোগান্তি হলো। ক্লাবগুলো যে সব বিদেশি ফুটবলারের নাম জমা দিয়েছিল তাদের নিয়েই এখন টুর্নামেন্ট খেলতে হবে। পেশাদার লিগের ১০ দলের সাথে রহমতগঞ্জ এবং সার্ভিসেস পুলিশ অ্যাথলেটিক ক্লাব নিয়ে ১২টি দল চার গ্রুপে খেলছে ফেডারেশন কাপের ২৭তম আসরে। টুর্নামেন্টে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র এবং রানার্সআপ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। মোহামেডান আবাহনী ফাইনালেই উঠতে পারেনি। তবে ফাইনালের আগেই গ্রুপ পর্বে মোহামেডান আবাহনীর লড়াইটি দেখা যাবে মাঠে। তিন গ্রুপ থেকে দুটি করে দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। ২০০৫ সালে শেষ বার মোহামেডান-আবাহনী একই গ্রুপে খেলেছি। সেবার আবাহনীর জয় হয়েছিল ৫-১ গোলে। প্রথম ফেডারেশন কাপ ফুটবলে ব্রাদার্সের সাথে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহামেডান। তাদের ঘরে ফেডারেশন কাপের ট্রফি আছে ১০টি। আর পরাশক্তি আবাহনীর ঘরে ট্রফি আছে ৮টি। এদেরকে ঠেলে দিয়ে শেখ রাসেল আর শেখ জামালের ঝাণ্ডা এখন উপরে। বড় দলের তকমা লাগানো শেখ রাসেল, শেখ জামাল বলেই দিয়েছে তারা এবার মৌসুমের সব ক’টি শিরোপা চায়। আর সমর্থক নির্ভর দুই দল মোহামেডান-আবাহনীও অন্যদের লক্ষ্য মাটিতে গুঁড়িয়ে দিয়ে আবার নিজেদের অবস্থান ফিরে পেতে চায়। লিগটাকে টার্গেট করে ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবার ভারতীয় কোচ সৈয়দ নইম উদ্দিনকে এনেছে। ফেডাকাপে দলটাকে সাজাতে চায় এক সময়ের আগা খান গোল্ডকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্স। তিন নম্বর গ্রুপে বিজেএমসি, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্সের সাথে রয়েছে সার্ভিসে দল পুলিশ। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠা কঠিনই হবে পুলিশের জন্য। কারণ সঙ্গী দল দুটির মতো শক্তি এবং অভিজ্ঞতা কোনো দিকেই সমান পাল্লায় নেই পুলিশ। তারপরও ফুটবল মাঠের খেলা নিয়ে আগাম বলা কঠিন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদও চ্যালেঞ্জ নিয়ে নেমেছে সেমিফাইনালে গিয়ে ফাইনালের টিকিট নেয়া। পেশাদার লিগ থেকে বিদায় নেয়া রহমতগঞ্জের সামনে আবার সুযোগ এসেছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার। এক নম্বর গ্রুপে শেখ জামালের সাথে রয়েছে ফেনীর সকার ক্লাব এবং নতুন দল উত্তর বারিধারা ক্লাব। ভালো লড়াই হবে শেষ দুই দলের। গ্রুপিং গ্রুপ - ১ গ্রুপ - ২ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র সকার ক্লাব, ফেনী মুক্তিযোদ্ধা উত্তর বারিধারা ক্লাব চট্টগ্রাম আবাহনী গ্রুপ - ৩ গ্রুপ - ৪ টিম বিজেএমসি আবাহনী ব্রাদার্স ইউনিয়ন মোহামেডান পুলিশ এসি রহমতগঞ্জ সময়সূচী ২১ নভেম্বর আবাহনী ঃ রহমতগঞ্জ ৩:৪৫ শেখ জামাল ঃ উত্তর বারিধারা ক্লাব ৬:০০ ২২ নভেম্বর টিম বিজেএমসি ঃ পুলিশ ৩:৪৫ শেখ রাসেল ঃ চট্টগ্রাম আবাহনী ৬:০০ ২৩ নভেম্বর উত্তর বারিধারা ক্লাব ঃ সকার ক্লাব ৩:৪৫ রহমতগঞ্জ ঃ মোহামেডান ৬:০০ ২৪ নভেম্বর পুলিশ ঃ ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৩:৪৫ চট্টগ্রাম আবাহনী ঃ মুক্তিযোদ্ধা ৬:০০ ২৫ নভেম্বর সকার ক্লাব ঃ শেখ জামাল ৩:৪৫ মোহামেডান ঃ আবাহনী ৬:০০ ২৬ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ঃ শেখ রাসেল ৩:৪৫ ব্রাদার্স ঃ টিম বিজেএমসি ৬:০০ ২৮ নভেম্বর প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ২৯ নভেম্বর কোয়ার্টার ফাইনাল ৩০ নভেম্বর কোয়ার্টার ফাইনাল ১ ডিসেম্বর কোয়ার্টার ফাইনাল ৩ ডিসেম্বর প্রথম সেমি-ফাইনাল ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল ৬ ডিসেম্বর ফাইনাল দর্শকদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা ওয়ালটন ফেডারেশন কাপ ফুটবলের সাধারণ গ্যালারির টিকিট মুল্য ধরা হয়েছে ২০ টাকা। ভিআইপি ৫০ টাকা। প্রতিদিন খেলার টিকিট পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এলাকায় গ্যালারিতে। গ্রুপ পর্যায়ে আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচটিসহ বিটিভি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে টুর্নামেন্টের বাদবাকি খেলাগুলো দেখাবে। এই প্রতিযোগিতায় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে দর্শকদের বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার থাকবে। পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটন দিচ্ছে পুরস্কার। চারটি কো-স্পন্সর ফেডারেশন কাপ ফুটবলের মূল স্পন্সর ওয়ালটন। সাথে বাফুফে কয়েকটি কো-স্পন্সর নিয়েছে। প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, ডিবিএল গ্রুপ, আমবার গ্রুপ এবং আমরা নেটওয়ার্ক। প্রতিষ্ঠানগুলো ফুটবলের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে বলে জানিয়েছে। গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, কো-স্পন্সররা কত টাকা দিচ্ছে সেটা বড় কথা নয়। আমরা তাদের ফুটবলের সাথে সম্পৃক্ত করতে পেরেছি সেটাই বড়।