বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ায় খরার সঙ্গে অসময়ে বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ৩ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন হাইব্রিড টমেটোর চাষ হয়। জুলাই মাসের শেষের দিকে আগাম চারা রোপণ করায় অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গাছে ফুল ও ফল দেখা দেয়। কিন্তু অক্টোবরের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে একটানা কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ায় টমেটো গাছের ফুল ও ফল নষ্ট হয়ে যায়। এখন টমেটো উঠতে শুরু করলেও ফলন বিপর্যয়ের কারণে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা। উপজেলায় ২শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়েছে। সরিষা চাষে ৩ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কৃষকরা জানান, জমিতে সরিষার বীজ ছিটানোর পর বৃৃষ্টি হওয়ার কারণে গাছ গজায়নি। বিলম্বে সরিষা চাষের কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশংকা রয়েছে। উপজেলা মহিষালবাড়ীর কৃষক সাদ্দাম হোসেন ৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের হাইব্রীড টমেটোর চাষ করেছেন । প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা করে। ৩ সপ্তাহ আগে জমি থেকে টমেটো উঠার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ফলন পাননি। তিনি জানান, একটানা ৫/৬ দিন বৃষ্টির কারণে গাছে ভাইরাসজনিত রোগ দেখা দিলে কীটনাশক প্রয়োগ করে গাছকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গাছে ফুল ও ফল দেখা দিলেও তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার সাগরপাড়ার কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ২ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। একটানা বৃষ্টির কারণে বেগুনের গাছে ফল ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় ফলন ভাল হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা ড. সাইফুল আলম বলেন, অক্টোবর মাসে অল্প তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। বৃষ্টিপাত হলেও হালকা বৃষ্টির কারণে টমেটোর গাছের ক্ষতি হয় না। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ায় গত কয়েক বছর ধরে অসময়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সবজি গাছে দাগ ও পচন রোগ দেখা দিচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে ফুল ও ফল। ফলে ফলন হচ্ছে কম।
