ব্রডের তোপে কোনঠাসা অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৭
ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড ব্রিসবেনে গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া চলতি অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টের উদ্বোধনী দিনেই ৫ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন-আপ ধসিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যেই স্বাগতিক দলের প্রতিরোধের মাধ্যমে স্বাগতিকদের আশা কিছুটা জিইয়ে রেখেছেন ব্র্যাড হাডিন। প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া আট উইকেট হারিয়ে করেছে ২৭৩ রান। হাডিন ব্যক্তিগত ৭৮ রানে অপরাজিত আছেন। চার রান নিয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন টেল এন্ডার রায়ান হ্যারিস। স্বাগতিক দলের হয়ে অন্য উল্লেখযোগ্য রান সংগ্রহকারীরা হলেন- মিশেল জনসন (৬৪), ডেভিড ওয়ার্নার (৪৯) ও স্টিভ স্মিথ (৩১)। ইংল্যান্ডের হয়ে ব্রডের পাশাপাশি দুই উইকেট নেন জেমস অ্যান্ডারসন। ট্রেমলেটের সংগ্রহ একটি। ব্রিসবেনের গাব্বায় টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেয়া স্বাগতিক অস্ট্রেলীয়দের টপ অর্ডার ব্রডের আক্রমণে যখন দিশেহারা, সেসময় দলকে টেনে তোলেন উইকেট রক্ষক হাডিন ও মিশেল জনসন। সপ্তম উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান করেন ১১৪ রান। যদিও নতুন বলে ইনিংসের পঞ্চম উইকেট হিসেবে ব্রডের শিকার হয়েই ব্যক্তিগত ৬৪ রান করে ক্রিজ ছেড়েছেন জনসন। দিনের খেলা শেষ হবার আগ মুহূর্তে পিটার সিডলের উইকেটটি হারায় স্বাগতিকরা। অ্যান্ডারসনের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সিডল। নইলে তার আগ পর্যন্ত শেষ সেশনে রানের চাকা ভালভাবেই সচল রাখছিলেন হাডিন ও জনসন। এসময় ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফ-সেঞ্চুরিও পূরণ করেন হাডিন। ব্রডের পঞ্চম শিকারে পরিণত হবার আগে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ফিফটি পূরণ করেন তিনি। এই জুটি না দাঁড়ালে দুর্গতি আরো বাড়তো স্বাগতিকদের। ব্রড সকালের সেশনে দুইটি এবং লাঞ্চের আগে শেন ওয়াটসন ও অধিনায়ক ক্লার্কের উইকেট দুইটি তুলে নিলে ১৩২ রানে ৬ উইকেট পড়ে যায় অজিদের। ব্রডের শর্ট বলটি ছেড়ে না দিয়ে খেলতে গেলে তা ব্যাট ছুঁয়ে দিয়ে শর্ট লেগে ইয়ান বেলের হাতে যায়। অথচ ব্রডের প্রথম বলটিই বাউন্ডারিতে আছড়ে দিয়েছিলেন ওপেনার ডেভিড ওয়র্নার; কিন্তু ওই এতটুকুই। তাই হাফ-সেঞ্চুরি থেকে এক রান কমে থেমে যেতে হয়েছে তাকে। ব্রডই তাকে ক্রীজছাড়া করেন। ব্রডের একটি শর্ট বল কাভারে কেভিন পিটারসেনের হাতে তুলে দেন তিনি। বলটি ধরে ক্যারিয়ারের শততম টেস্ট উদযাপনটা ভালই করেছেন পিটারসেন। অভিষেক পাওয়া জর্জ বেইলি মাত্র তিন রান করেই অ্যান্ডারসনের বলে প্রথম স্লিপে অ্যালিস্টার কুকের হাতে ধরা পড়লে ৩৬ ওভারে ক্লার্কের দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০০/৫। স্টিভ স্মিথ কয়েকটি ভাল শর্ট খেললেও বেশি দূর যেতে পারেননি। ৩১ রান করে ট্রেমলেটের বলে স্লিপে কুকের হাতে জমা পড়েন তিনি। টানা চতুর্থ সিরিজ হারের লজ্জা থেকে বাঁচতে অস্ট্রেলিয়ার যে সূচনার দরকার ছিল তা দেখা যায়নি এদিন। অথচ ১৮৯০ সালের পর এই প্রথম টানা চার সিরিজে হারের শঙ্কা নিয়েই খেলছে দলটি। স ং ক্ষি প্ত স্কো র অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস ক্রিস রজার্স ক বেল ব ব্রড ১ ডেভিড ওয়ার্নার ক পিটারসেন ব ব্রড ৪৯ শেন ওয়াটসন ক সোয়ান ব ব্রড ২২ মাইকেল ক্লার্ক ক বেল ব ব্রড ১ স্টিভ স্মিথ ক কুক ব ট্রেমলেট ৩১ জর্জ বেইলি ক কুক ব এন্ডারসন ৩ ব্র্যাড হাডিন নট আউট ৭৮ মিশেল জনসন ব ব্রড ৬৪ পিটার সিডেল ক কুক ব অ্যান্ডারসন ৭ রায়ান হ্যারিস নট আউট ৪ অতিরিক্ত (লেগবাই-১১, ওয়াইড-১, নো বল-১) ১৩ মোট: (৯০ ওভার, ৮ উইকেট) ২৭৩ উইকেট পতন: ১/১২, ২/৭১, ৩/৭৩, ৪/৮৩, ৫/১০০, ৬/১৩২, ৭/২৪৬, ৮/২৬৫। বোলিং: অ্যান্ডারসন ২২-৫-৬১-২, ব্রড ২০-৩-৬৫-৫, ট্রেমলেট ১৯-৩-৫১-১, সোয়ান ২৬-৪-৮০-০, রুট ৩-১-৫-০।