হার্ট এ্যাটাক: ঝুঁকিগুলো বিবেচনা

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৬
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস বারডেম, ঢাকা কিছু কিছু উপাদান আছে যে গুলোর কারণে ধমনীর দেয়ালে জমে উঠে মেদপুঞ্জ, পরিস্তরের মত। সরু হয়ে যায় ধমনী পথ। হূদযন্ত্রকে সরবরাহ করে যে করোনারি ধমনী সেগুলোও এভাবে সরু হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা একে বলেন এথারোস্ক্লোবোসিস। এসব ঝুঁকি অনেকগুলো সহজে এড়ানো যায়, বর্জনও করা যায় এভাবে। প্রথম হার্ট এ্যাটাক বা পরবর্তী আক্রমণও ঠেকানো যায়। হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকিগুলো হলো-বয়স ৪৫ উদ্ধ পুরুষ এবং ৫৫ উর্দ্ধ মহিলাদের এর চেয়ে কম বয়সের নারী পুরুষের চেয়ে হার্ট এ্যাটাকের সম্ভাবনা বেশি। তামাক ধূমপান বা অন্যের সিগারেটের ধোয়া সেবন অনেক বেশি ক্ষতি করে ধমনীর ভেতরের দেয়ালের। এমনকি হূদযন্ত্রের রক্ত সরবরাহ করে যে করোনারি ধমনী এদের দেয়ালকেও। ফলে ধমনীগাত্রে স্তরে স্তরে জমে উঠে চর্বি কোলেস্টেরল ও অন্যান্য বর্জ্য। সরু হয়ে যায় ধমনীপথ, ধীর হয়ে রক্ত প্রবাহ। ভয়ানক রক্তজমাট পুঞ্জ ধমনীর দেয়ালে গড়ে উঠতেও সহায়তা করে ধূমপান। আর এভাবে ঘটে হার্ট এ্যাটাক। ডায়াবেটিস শরীর যখন ইনসুলিন হরমোন নি:সরণে অক্ষম হয়ে যায় বা ইনসুলিন নি:সরণ হলেও এতে সাড়া দিতে অপরাগ হয় এর যে কোনও একটির। ফলশ্রুতিতে ঘটে ডায়াবেটিসের মত রোগ। দেহের গ্রন্থি অগ্ন্যাশয় থেকে নি:সৃত হয় হরমোন ইনসুলিন। সহায়তা করে শরীরকে গ্লুকোজ ব্যবহারের জন্য। ডায়াবেটিস হতে পারে শৈশবেও। তবে বেশি হয় মধ্য বয়সে ও স্থূর লোকদের মধ্যে। ডায়াবেটিস হলে অনেক বেড়ে যায় হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি। উচ্চ রক্তচাপ যে ধমনী হূদযন্ত্রে রক্তের জোগান দেয় সেই ধমনীতে চর্বি জমে, ধমনীর দেয়াল দৃঢ় হয়। রক্ত চলাচল কমে আসে। কালক্রমে উচ্চ রক্তচাপ ধমনীর ক্ষতি করে করে এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। হার্ট এ্যাটাক হবার পথ সুগম করে। বয়স যত বাড়ে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। তবে এর প্রধান কারণ হলো খাদ্য, ত্রুটিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ। যেমন খুব বেশি পরিমাণে খাবারে লবণ খাওয়া। আর শরীরের ওজন বেশি হলে এই ঝুঁকি আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে বংশগত কারণেও। উচুমান কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড মান শরীরের ধমনীর দেয়ালে এমনকি হূদযন্ত্রের করোনারি ধমনীর দেয়ালে চর্বির যে স্তর পড়ে এর প্রধান অন্তর্গত চর্বি হলো কোলেস্টেরল। ধমনীপথ হয়ে পড়ে সংকীর্ন। রক্তে যদি মন্দ কোলেস্টেরলোর মান বাড়ে তা হলে হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে কয়েক গুণ। লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল বা এলডিএল কোলেস্টেরল (মন্দ কোলেস্টেরল) মূলত: ধমনী পথ সরু হওয়ার জন্য দায়ী। রক্তে উচুমান এলডিএল নিরাপদ নয়। অনেক সময় সম্পৃক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরল সম্বৃদ্ধ খাবার এর জন্য কিছুটা দায়ী। আমাদের শর্করা খাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত রক্তের একটি চর্বি ট্রাইগ্লিসারাইড এরও উচুমান থাকা হিতকর নয়। তবে হিতকর কোলেস্টেরল হাই-ডেনিসটি লাইপোপ্রোটিন এইচডিএল মান বেশি থাকলে হূদযন্ত্রের জন্য খুব ভালো। এইচডিএল শরীর থেকে বাড়তি কোলেস্টেরল সরিয়ে দেবার জন্য কাজ করে। যার ফলে হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে যায়। হার্ট এ্যাটাকের পারিবারিক ইতিহাস ভাই-বোন, মা-বাবা, দাদা-দাদী এদের হার্ট এ্যাটাক হয়ে থাকলে ঝুঁকি হতে পারে অনেক বেশি। পরিবারে এমন জীনগত উপাদান থাকতে পারে যাতে বেড়ে যেতে পারে অবাঞ্চিত কোলেস্টেরল। উচ্চ রক্তচাপও হতে পারে বংশগত কারণে। শরীর চর্চার অভাব নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন করলে রক্তে বেড়ে যেতে পারে কোলেস্টেরল। কালক্রমে দেহ হয় স্থূলতা। যারা নিয়মিত এরোবিক ব্যায়াম করেন, যেমন দ্রুত হাটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাতার কাটা এদের হূদযন্ত্রের রক্তনালীর ফিটন্যাস ভালো থাকে। এতে হূদরোগের সার্বিক ঝুঁকি কমে আসে। স্থূলতা স্থূল লোকদের শরীরের মেদ বেশি। বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই এদের হয় ৩০ বা এর চেয়ে বেশি। স্থূলতা বাড়িয়ে দেয় হূদরোগের ঝুঁকি। কারণ স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হলো রক্তে উচুমান কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস। মানসিক চাপ মানসিক চাপে মানুষ সাড়া দেয় নানাভাবে। আর এর কারণে বাড়তে পারে হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি। মানুষ অনেক সময় বেশ চাপে থাকলে অনেকে খুব ধূমপান করে নার্ভাস ও টেনসনের জন্য। খুব বেশি চাপ বা খুব ক্রোধ বাড়িয়ে দিতে পারে উচ্চ রক্তচাপ। নেশার ওষুধ সেবন উদ্দীপক মাদক যেমন- কোকেন, এমফিটে মাইন ব্যবহারে করোনারি ধমনীতে হয় আক্ষেপ। যা থেকে হতে পারে হার্ট এ্যাটাক।