অস্ট্রেলিয়ার পতাকা পুড়িয়েছে ক্ষুব্ধ ইন্দোনেশীয়রা

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০৮
প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডি ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোনে আড়ি পাতার খবরে অস্ট্রেলিয়ার পতাকা পুড়িয়েছে ক্ষুব্ধ ইন্দোনেশীয়রা। অস্ট্রেলিয়ার এ আড়ি পাতার জেরে ১৯৯০-এর দশকের পর দু’দেশের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছছে। বৃহস্পতিবার প্রায় ২শ’ মানুষ জাকার্তায় কড়া নিরাপত্তাধীন অস্ট্রেলীয় দূতাবাস অভিমুখে মিছিল করে গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনায় ক্ষমা দাবি করেছে। বুধবার ক্যানবেরার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধোয়োনো। বিক্ষোভ-কারীরা অনেকেই অস্ট্রেলিয়াকে আক্রমণ করে লেখা ব্যানার হাতে বিক্ষোভ করে। এর একটিতে লেখা ছিল: “আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের জন্য তৈরি”। অন্যদিকে জাভার কেন্দ্রীয় শহর ইয়োগাকার্তায় বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে অস্ট্রেলিয়ার পতাকা পোড়ায়। প্রেসিডেন্ট ইয়োধোয়োনো বুধবার জাতীয় টিভিতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা নথির ভিত্তিতে ইন্দোনেশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার আড়িপাতার খবর প্রকাশ পায়। এতে বলা হয়, ২০০৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোনে নজরদারি করার চেষ্টা চালায় অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট ইতিমধ্যে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও ক্ষমা চাননি। এদিকে ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণের ব্যাপারে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ডের পরেই তাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভ্রমণের জায়গা ইন্দোনেশিয়া। পার্লামেন্টে গত বৃহস্পতিবার টনি অ্যাবট বলেন, তিনি ইয়োধোয়োনোর কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। দ্রুত এবং বিনয়ের সাথে চিঠির পুরোপুরি জবাব দেয়া হবে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এ ঘটনায় দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। অর্থনীতি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্ক বজায় আছে। অস্ট্রেলিয়ার কৃষিপণ্যের অন্যতম আমদানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া। আর অস্ট্রেলিয়া ইন্দোনেশিয়ার ১০ম রপ্তানি বাজার।