বেনাপোলের হাকর নদী জবর দখল

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২৪
দেশের বৃহত্তর স্থল বন্দর বেনাপোলের পাশ দিয়ে প্রবহমান এক সময়ের খরস্রোতা হাকর নদীটি জবর দখলের কারণে খরস্রোতা হারিয়ে স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি ব্যবস্থাপনা না থাকায় ১৯৬২ সালে এসএ রেকর্ড চলাকালীন সময় তত্কালীন দুর্নীতিবাজ ও অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় স্থানীয় কতিপয় ভূমি জবর দখলকারীদের নামে প্লট তৈরি করে তা রেকর্ড করে দেন। খরস্রোতা এ হাকর নদীটির পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় ২০০০ ও ২০০২ সালে ভয়াবহ বন্যায় খতিগ্রস্ত হয় এলাকার ফসল ও জানমালের। অবৈধ দখলকারীদের ব্যক্তি নামে রেকর্ড হওয়ায় তাদের হাতে হাকর নদীর পার্শ্ববর্তী বসবাসকারীরা নানাভাবে লাঞ্ছনার শিকার হয়। নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ থাকায় বৃহত্তর সোনামুখী বিল ও তার পার্শ্ববর্তী মৌজার হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে পানির নিচে জলমগ্ন হয়ে বিনষ্ট হচ্ছে। হাকর নদীটি ভারত সীমান্তের জয়ন্তীপুর ও পেট্রাপোল গ্রামের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল পোর্ট থানার সাদীপুর গ্রামের ভিতর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এটি সাদীপুর বড়আচড়া, ছোট আচড়া, ভবারবেড়, বেনাপোল ও নারানপুরসহ ৬টি মৌজার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সরবাংহুদা মৌজার মধ্যদিয়ে ইছামতি নদীর সংযোগ খাল বৃহত্তর কোদলা নদীতে মিলিত হয়েছে। এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান এ হাকর নদীর বিষয়টি বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নদী সেল শাখার টাস্কফোর্স কমিটির নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের পর জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।