নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস ও প্রাক্তন ছাত্রদের পুনর্মিলনী। শনিবার সকালে কোরান তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হয়। শান্ত্মির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কলেজের প্রবীণতম ছাত্র ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবুল কালাম আজাদ মুহাম্মদ যাকারিয়া। এ সময় বক্তারা উপমহাদেশের তথা অবিভক্ত ভারতের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা কলেজের অবদান স্মরণ করেন। এছাড়া জ্ঞান-বিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রাখা এ প্রতিষ্ঠানের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আমি ২৩ বছর এ কলেজের অধ্যাপক ছিলাম। এ কলেজের প্রতিটি কক্ষে আমার যৌবনের স্মৃতি রয়েছে। তিনি বলেন, আজকে ঢাকা কলেজের অনেক ছাত্র দেশ পরিচালনায় যুক্ত রয়েছে। তাদের সঙ্গে দেখা হলে বলে- ‘স্যার আপনি আমাদের হৈমন্তী পড়িয়েছেন।’ তখন আমি বলি, শেষ করি নাই তো! হ্যাঁ, আমি কোনো দিন ছাত্রদের বইয়ের পড়া পড়াতাম না। কারণ আমি জানি বইয়ের পড়া পড়ালেও তারা তা লিখবে না। তারা লিখবে নোটের দেয়া লেখা।
পুনর্মিলনীতে প্রাক্তন ছাত্রদের উপস্থিতিতে কলেজ মাঠ মিলন মেলায় পরিণত হয়। প্রথম পর্বে কলেজের অধ্যক্ষ ড. আয়েশা বেগমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ প্রমুখ।
দ্বিতীয় পর্বে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও শিক্ষক নেতা কাজী ফারুক আহমেদ, প্রাক্তন ছাত্র কবি মোহন রায়হান। পরে যাদু প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।
