ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় তেহরানের সঙ্গে ছয়টি দেশের আলোচনায় গতকাল শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভসহ বিশ্বশক্তির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দিয়েছেন। শনিবার বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে জানানো হয়, তেহরানের সঙ্গে ছয় জাতির আলোচনায় সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন পাস্কি শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, এ পরমাণু চুক্তির আলোচনায় অংশ নিতে জন কেরি শনিবার জেনেভায় যাবেন। বুধবার জেনেভায় শুরু হওয়া এ আলোচনায় ইতোমধ্যে রাশিয়ার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত হয়েছেন। এ আলোচনার মধ্যস্থতাকারীরা শুরু থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করছেন তারা। শনিবার ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব উইলিয়াম হেগ এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং হি যোগ দিবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জার্মান কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি আরো জানায়, জার্মানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইডো ওয়েস্টারওয়েলেও এ আলোচনায় অংশ নেবেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় তেহরানের সঙ্গে ছয়টি দেশের আলোচনায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হতে পারে। এটা হলে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধের বিনিময়ে তার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক ও মার্কিন কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হতে পারে। গত বুধবার শুরু হওয়া ওই আলোচনা গত শুক্রবারই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত চলতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
তবে এই আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তবে ইরানের প্রতি অগ্রিম হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা এই আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর আরো কঠিন অবরোধ আরোপের প্রস্তাব করেছেন। প্রসঙ্গত, ইরানের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তবে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্র দেশগুলো বলছে, ইরান পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হওয়ার চেষ্টা করছে।
