এই লড়াইটা টুর্নামেন্টের শেষের দিকেই মানায় ভালো। কিন্তু এবার ফেডারেশন কাপের আজ পঞ্চম দিনেই গ্রুপ পর্যায়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আবাহনী-মোহামেডান। বিটিভি খেলা দেখাবে।
একটা সময় ছিল, এই দু’দলের লড়াইয়ের আগে রীতিমতো যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করতো শহরে। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। মতিঝিলে মোহামেডান শিবির বা ধানমন্ডিতে আবাহনী ক্লাব; কোথাও সমর্থকদের চাপ সামাল দিতে বাড়তি নিরাপত্তারও প্রয়োজন হয় না। আজকের ম্যাচ নিয়ে কোনো বাড়তি উত্তেজনা নেই।
দুই ক্লাব ঘুরে দেখা গেল ক্লাব কেন্দ্রিক জনা কয়েক সমর্থক প্রতিদিনের মতো ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের মুখে খেলা নিয়ে আলোচনা নেই। বরং দেশের রাজনীতির ঘোরপ্যাঁচ নিয়ে আলোচনাতেই যেন আগ্রহ বেশি! মাঠে অনুশীলন করছেন খেলোয়াড়রা। দলে আসা নতুন বিদেশি খেলোয়াড়দের বুঝানো হচ্ছে প্রতিপক্ষ দেশের ঐতিহ্যবাহী দল, সমর্থকনির্ভর দল, এটা হবে মর্যাদার লড়াই; বাড়তি বলতে এটুকুই।
মোহামেডান-আবাহনীর ম্যাচটা টুর্নামেন্টের বিচারেও মর্যাদার লড়াই বটে। কারণ দুই দল এরই মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে। আজ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের ম্যাচ। এক নম্বর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন খেলবে চার নম্বর গ্রুপ রানার্সআপের বিরুদ্ধে। আর রানার্সআপ খেলবে চার নম্বর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে। যে কারণে এক নম্বর গ্রুপের খেলাটিও গুরুত্বপূর্ণ আজ।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় মোহামেডান আবাহনী মাঠে নামার আগেই কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ দুই দল নির্ধারণ হয়ে যাবে। কারণ একই মাঠে বিকাল পৌনে চারটায় শেখ জামাল ও সকার ক্লাব মুখোমুখি হবে। প্রথম ম্যাচটি শেষ হলে মোহামেডান-আবাহনী মুখোমুখি হওয়ার আগে বুঝতে পারবে প্রতিপক্ষ হিসাবে কাকে পাচ্ছে তারা—শেখ জামাল নাকি সকার ক্লাব।
মৌসুমের শুরুতেই একটি করে ম্যাচ খেলেছে মোহামেডান ও আবাহনী। সেই অর্থে বলা যায় মাঠে এখনো তারা মানিয়ে নেয়ার যথেষ্ঠ সময় পায়নি। কয়েকটি ম্যাচ গেলে কোচ দেখে নিতে পারেন, খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার প্রস্তুতিটা কতটুকু হয়েছে। কিন্তু এবার ফরম্যাট এমনই হয়েছে যে, সে সুযোগ পায়নি মোহামেডানের ভারপ্রাপ্ত কোচ জুয়েল রানা, আবাহনীর কোচ অমলেশ সেন।
তবে প্রস্তুতি যেমনই হোক আবাহনী অধিনায়ক সুজন বলছেন, ‘ড্র বা হার নয়। মোহামেডানের বিরুদ্ধে আমরা যে কোনো মূল্যে মাচ জিততে চাই। এটা হবে স্নায়ুর লড়াই। যারা স্নায়ুর চাপ সামাল দিয়ে খেলতে পারবে তারাই জিতবে।’
অন্য দিকে মোহামেডান অধিনায়ক এমিলি বলছেন, এটি তার কাছে মর্যাদার লড়াই, ‘বিদেশি ফুটবলারদের মান খুব একটা ভালো না। তবে তাদের নিয়েই আজ আমাদের লড়াই হবে আবাহনীর বিরুদ্ধে।’
আবাহনী তাদের প্রথম ম্যাচে রহমতগঞ্জকে ৩-০ গোলে হারালেও সেই আবাহনীর খেলা দর্শকদের তৃপ্তি দিতে পারেনি। মোহামেডান তাদের প্রথম ম্যাচে ৫-২ গোলে জিতলেও বিদেশি ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তুষ্ট।
গত মৌসুমে মোহামেডানে খেলা ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার ওসে মরিসন এবার আবাহনীর জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে আলো ছড়িয়েছেন। তাদের সাথে আবাহনীতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার রয়েছেন দুই জন। তারা দলের জন্য দারুণ পরিবর্তন এনে দিতে পারেন। সাথে দেশীয় ফুটবলারদের মধ্যে ওয়ালী ফয়সাল, গোলকিপার সোহেল, অধিনায়ক সুজন, মিশু, কোমলদের চ্যালেঞ্জিং ফুটবল মর্যাদার লড়াইয়ে জয় এনে দিতে পারে আবাহনীকে।
অনেক দিন পর ভালো দল গড়া মোহামেডান এবার শুরুটাও ভালো করেছে। ৫-২ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে দারুণ সূচণা করেছে। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক পেয়ে এমিলি এখন দারুণ উত্তেজিত। জাহিদ, ওয়াহেদ আহমেদ, গোলকিপার মামুন খান, নাহিদুল ইসলাম, আরিফুল ইসলামরা চাইছেন আবাহনীর বিরুদ্ধে একটা ভালো খেলা দেখিয়ে নিজেদের অবস্থান আরো সুসংহত করে নেবেন। কতটা পারবেন সেই পরীক্ষাটা মাঠেই হবে।
মাঠের বাইরে হয়তো সেই উত্তেজনা নেই, নেই সমর্থকদের শিহরণ; কিন্তু খেলোয়াড়দের অন্তত কথাবার্তা বলে দিচ্ছে, মাঠে তারা ফুটবলীয় উত্তেজনা ছড়াতে প্রস্তুত।
