সাভারের তাজরীন কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন। তারা বলেছে, আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তাজরীন গার্মেন্টস মালিককে গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে। তাদের দাবি, নিহতের সংখ্যা ১১২ জনেরও বেশি হবে। সব নিহত শ্রমিক এখনো ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে তাদের লস অব আর্নিংয়ের হিসাবে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ারও দাবি জানায়।
গতকাল রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে সমাহিত হওয়া ৫৩ শ্রমিকের কবরস্থানে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন স্মরণসভার আয়োজন করে। ঐ স্মরণসভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এসব দাবি তোলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল, গার্মেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের কবরে ফুল দিয়ে স্মরণ করে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে অঙ্গার হওয়া ৫৩ টি মৃতদেহ শনাক্ত করার উপায় ছিল না। তাদের ডিএনএ’র নমুনা রেখে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৭ জন শ্রমিককে শনাক্ত করা হয়।
জুরাইন কবরস্থানে স্মরণসভায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (টেক্সটাইল) সমন্বয়কারী কামরুল আনাম অবিলম্বে তাজরীন কারখানার মালিককে গ্রেফতারের দাবি জানান। সেইসঙ্গে শ্রমিকদের বাকি জীবন আনুমানিক আয়ের ক্ষতির (লস অব আর্নিং) হিসাবে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানানো হয়।
আলাদা স্মরণসভায় টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম ফেডারেশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে কারখানার মালিককে গ্রেফতারের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে বলে হুমকি দেন তিনি।
শ্রমিক নেতা বাহারানে সুলতান বাহার অভিযোগ করে বলেন, তাজরীনে আগুন লাগানো হয়েছে। শ্রমিকদের হত্যা করা হয়েছে। কী কারণে আগুন লেগেছে, তা উদঘাটন করা না গেলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
এক বছর আগে সাভারের নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরো অন্তত ৫০ জন শ্রমিক। কমপ্লায়েন্সের (কর্মপরিবেশ) শর্ত পূরণ না করে কারখানাটি সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করে। ঐ ঘটনায় নিহতদের (যাদের লাশ শনাক্ত হয়েছে) পরিবারকে ৭ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। আর আহদের ১ লাখ টাকা করে। এছাড়া নিহত পরিবারের সদস্য ও আহতদের চিকিত্সায় বিভিন্ন লি এন্ড ফাং, সিএন্ডএমসহ কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে।
