দোলেশ্বর গাজী ট্যাংকের ‘ফাইনাল’ কাল

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০০
প্রাইম দোলেশ্বরের জয়ে ও গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সের হারে শেষ রাউন্ডে গড়ালো ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের শিরোপা লড়াই। তবে এর উল্টোটা হলে গতকাল সোমবারই নিশ্চিত হয়ে যেতো লিগ শিরোপা। কিন্তু ঘটলো ঠিক এর উল্টোটা। মাহমুদুল্লা রিয়াদের সেঞ্চুরির পরও গাজী ট্যাংক ৫৪ রানে হারলো মোহামেডানের কাছে। অন্যদিকে কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমির বিপক্ষে ১৫ রানে জিতলো প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং। ফলে আগামীকাল শেষ রাউন্ডে গাজী ট্যাংক ও প্রাইম দোলেশ্বরের খেলাটি কার্যত ফাইনালে পরিণত হলো। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে খেলাটি । থামলো গাজী ট্যাংকের জয়রথ টানা তিন জয়ের পর অবশেষে সুপার লিগে থামলো গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সের জয়রথ। গতকাল সোমবার বিকেএসপি’র তিন নম্বর মাঠে তাদের হারিয়ে দিয়ে ইতোমধ্যেই শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে পড়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিগটিকে জমিয়ে রাখে। মোহামেডান টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুই বিদেশী’র নৈপুণ্যে ছয় উইকেটে ২৬৮ রান তোলে। ইংল্যান্ডের সামিত প্যাটেল ৭৬ ও শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা ৬২ রান করেন। শেষের দিকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ১৫ বলে এক ছক্কা ও ছয়টি চারের মারে ৩৭ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। গাজী ট্যাংকের আরাফাত সানি নেন দুটি উইকেট। জবাবে সাত রানের মধ্যে তিন উইকেটের পতনের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি গাজী ট্যাংক। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গেলেও সেই লড়াই কোন কাজেই আসেনি গাজী ট্যাংকের। ১২৫ বলে দুই ছক্কা ও ১২ চারে ১০৬ রান করে জাতীয় দলের সহ অধিনায়ক আউট হয়ে যাওয়ার পরই পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায় গাজীর। ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও জ্বলে উঠেন সামিত প্যাটেল। বামহাতি অফস্পিনে নেন তিনটি উইকেট। এই হারের পর পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নেমে এলো গাজী ট্যাংক। তাদের পয়েন্ট এখন ২০। আর মোহামেডানের পয়েন্ট ১৮। আবারও শীর্ষে উঠলো দোলেশ্বর আবারও পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে এলো এ মৌসুমের সাড়া জাগানো দল প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। ফতুল্লা’র খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমিকে ১৫ রানে হারায় দলটি। গাজী ট্যাংকের সাথে সমান ২০ পয়েন্টে থেকেও রান রেটে এগিয়ে থেকে এখন তারা শীর্ষে অবস্থান করছে। দোলেশ্বর এদিন টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ১০ ওভারে ৪২ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় । দলকে সেই অবস্থা থেকে টেনে তোলেন মুমিনুল হক ও ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেয়িড মালান। তাদের ৮০ রানের জুটিতে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বড় স্কোরের দিকে এগোতে থাকে দোলেশ্বর। মুমিনুল ৪৫ রান করেন। মালান জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজার বলে আউট হবার আগে ছয় ছক্কা ও আট চারে ১২৩ রান করেন। এরপর সাব্বির রুম্মান ও তিলকারত্নে সাম্পাথ ৩২ করে রান করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ২৮৭ রান করে দোলেশ্বর। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা নেন চারটি উইকেট। জবাবে সাত রানে দুই উইকেট হারালেও মিডল অর্ডারে দাপুটে ব্যাটিংকে ভালই এগিয়ে যাচ্ছিল কলাবাগান অ্যাকাডেমি। কিন্তু ১৫ রান আগেই থেমে যেতে হয় তাদের। আট উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৮৭ রান করে দলটি। সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন শরীফুল্লাহ। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৬৯ ও মার্শাল আইয়ুব ৬৭ রান করেন। লেগ স্পিন বোলিংয়ে প্রাইম দোলেশ্বরের সাব্বির রুম্মান নেন দুটি উইকেট। শেখ জামালের কষ্টার্জিত জয় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে দুই উইকেটের কষ্টার্জিত জয় পেল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেটে ২৫৬ রান করে প্রাইম ব্যাংক। সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন তৈয়বুর রহমান। এছাড়া ইংলিশ ব্যাটসম্যান রবি বোপারা ৬১ রান করেন। শেখ জামালের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন শুভাশীষ রায় ও তানভির হায়দার। জবাবে জয়ের জন্য শেষ ওভার পর্যন্ত খেলে যেতে হয় শেখ জামালকে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন। এছাড়া তানভির হায়দার ৩৩ ও ওপেনার জহুরুল ইসলাম অমি ৩০ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের পেসার জিয়াউর রহমান পান দুটি উইকেট। সংক্ষিপ্ত স্কোর গাজী ট্যাংক - মোহামেডান টস: গাজী ট্যাংক মোহামেডান: ৫০ ওভারে ২৬৮/৬ ( সামিত প্যাটেল ৭৬, উপুল থারাঙ্গা ৬২, মাশরাফি বিন মুর্তজা ৩৭, শামসুর রহমান শুভ ৩৬; আরাফাত সানি ২/৩৭) গাজী ট্যাংক: ৪২ ওভারে ২১৪ অল আউট (মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১০৬, ইমরুল কায়েস ৩৬; সামিত প্যাটেল ৩/৫২, দেলওয়ার হোসেন ২/৩১, মুরাদ খান ২/২৬) ফল: ৫৪ রানে জয়ী মোহামেডান ম্যাচ সেরা: সামিত প্যাটেল প্রাইম দোলেশ্বর - কলাবাগান অ্যাকাডেমি টস: কলাবাগান অ্যাকাডেমি প্রাইম দোলেশ্বর: ৫০ ওভারে ২৮৭/৭ ( ডেয়িড মালান ১২৩, মুমিনুল হক ৪৫, তিলকারত্নে সাম্পাথ ৩২, সাব্বির রুম্মান ৩২; হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৪/৫৬) কলাবাগান অ্যাকাডেমি: ৫০ ওভারে ২৭২/৮ ( শরীফুল্লাহ ৭০, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৬৯, মার্শাল আইয়ুব ৬৭; ২/৪৩) ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ১৫ রানে জয়ী ম্যাচ সেরা: ডেয়িড মালান শেখ জামাল - প্রাইম ব্যাংক টস: শেখ জামাল প্রাইম ব্যাংক: ৫০ ওভারে ২৫৬/৬ ( তৈয়বুর পারভেজ ৮৯, রবি বোপারা ৬১; শুভাশীষ রায় ২/৩৯, তানভির হায়দার ২/১৪) শেখ জামাল: ৪৯.৩ ওভার ২৬০/৮ ( মুশফিকুর রহীম ৮২, তানভির হায়দার ৩৩, জহুরুল ইসলাম অমি ৩০; জিয়াউর রহমান ২/৪৬, রবি বোপারা ২/২৬) ফল: শেখ জামাল দুই উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: মুশফিকুর রহীম