অ্যাগুয়েরোর প্রশংসায় কোচ পেলিগ্রেনি

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০১
সের্জিও অ্যাগুয়েরোকে প্রশংসায় ভাসালেন তার কোচ ম্যানুয়েল পেলিগ্রেনি। চিলির এই কোচ গত রবিবার টটেনহ্যাম হটস্পারের বিরুদ্ধে ম্যানচেষ্টার সিটির ৬-০ গোলের জয়ের পর তার দক্ষিণ আমেরিকান পড়শিকে বিশ্বের সেরা তিন খেলোয়াড়ের একজন বলে মত দেন। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার অ্যাগুয়েরো খেলাটিতে দুই গোল করেন। পেলিগ্রেনি মনে করেন, লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি অ্যাগুয়েরোর নামটিও থাকা উচিত। ম্যানচেস্টার সিটির জয়ের রাতে অবশ্য পয়েন্ট খুইয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কার্ডিফ সিটির মাঠে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে কোচ ডেভিড ময়েসের দল ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেও ইনজুরি টাইমে গোল হজম করে পয়েন্ট খোয়ায়। অথচ একই রাতে তাদের পড়শিরা গোল বন্যা বইয়ে দেয় হটস্পারের জালে। অ্যাগুয়েরো এ খেলায় দেয়া দুই গোলের সুবাদে লিগে সর্বোচ্চ গোলের (১০টি) মালিক । আর সিটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১১ খেলায় ১৪টি গোল করেছেন তিনি। এরই সাথে দারুণ একটি রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেললেন আর্জেন্টাইন তারকা। ইংলিশ ক্লাবগুলোর হয়ে কমপক্ষে ৪৫টি গোল করেছেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে গড়ে সব থেকে কম সময় নিয়েছেন তিনি। হটস্প্যার্সের বিপক্ষে আলভারো নেগ্রেডো একটি গোল করেন। জুটি বেঁধে এই দুই তারকা দারুণ খেলে চলেছেন। পেলিগ্রেনি তাদের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি নেগ্রেদোকে আট বছর ধরে চিনি। লিগের জন্য সে উপযুক্ত খেলোয়াড়। এ জন্যই সে এখানে খেলছে। দলের খেলার ধরনটাও সে পছন্দ করে এবং অনেক সাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আমাদের দলে সে গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। অ্যাগুয়েরোর পাশে খেলার কারণে তার জন্য এটা অনেক সহজ। আমি মনে করি অ্যাগুয়েরো মেসি এবং রোনালদোর পাশাপাশি বিশ্বের সেরা তিন খেলোয়াড়ের একজন।’ জেসাস নাভাসও খেলাটিতে দুই গোল করেন। খেলা শুরুর মাত্র ১৪ সেকেন্ডের মাথায় এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার স্বাগতিক সিটিকে এগিয়ে দেন। এরপর সান্দ্রো নিজেদের জালে বল জড়ালে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ৪১ মিনিটের মাথায় নাভাসের বাড়ানো বল থেকে ব্যবধান আরো বাড়ান অ্যাগুয়েরো। পেলিগ্রেনির দলটি ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে। বিরতি শেষে ৫০ মিনিটে অ্যাগুয়েরো ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করলে সিটির জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে নেগ্রেডো একটি এবং ইনজুরি টাইমে নাভাস আরো একটি গোল করলে ৬-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পেলিগ্রেনির দলটি। হটস্প্যার্সের কোচ আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াসের কণ্ঠে এই হারের পর হতাশা ফুটে উঠে, ‘আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত এবং এমন হারের একটা যথোপযুক্ত প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত। প্রথমার্ধে আমরা বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছি। সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে কিংবা প্রথমার্ধ যদি ১-১ ব্যবধানে শেষ হতো তাহলে খেলার ফল অন্যরকম হতে পারতো।’ সবমিলিয়ে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরের পর হটস্পারের এতো বড়ো পরাজয় এই প্রথম। সেবার নিউক্যাসলের কাছে ৭-১ ব্যবধানে হেরেছিল দলটি। এই হারের ফলে টটেনহ্যাম এখন লিগের নবম স্থানে নেমে গেছে। অপরদিকে ২২ পয়েন্ট নিয়ে সিটি উঠে এসেছে চতুর্থ অবস্থানে। ভিলাস-বোয়াস প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, ‘সিটি দুর্দান্ত খেলেছে। আর আমরা ঠিক তার উল্টোটা করেছি।’ তবে সামনে ভাল কিছু করে দেখানো প্রত্যয় নিয়ে পর্তুগীজ এই কোচ বলেন, ‘আমার দায়িত্ব হলো খেলোয়াড়দের সাথে থাকা। সব সময়ই আপনার সামনে আরো খেলা থাকবে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো ইউরোপা লিগে দারুণ কিছু করে দেখানো।’ সিটি কোচ পেলিগ্রেনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা দারুণ খেলেছি। আমরা চেষ্টা করছি নিজেদের খেলার আলাদা একটি ধরন তৈরি করতে। আমরা এভাবেই খেলে যাবো।’ একই রাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং কার্ডিফ সিটির মধ্যকার খেলাটি ২-২ সমতায় শেষ হয়েছে। খেলার ১৫ মিনিটের মাথায় ওয়েন রুনি ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন। তবে ৩৩ মিনিটে সমতা ফেরান ফ্রেজিয়ার ক্যাম্পবেল। ৪৫ মিনিটে রুনির বাড়ানো বলকে পেট্রিক এভরা প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দিলে আবারো এগিয়ে যায় সফরকারীরা। তবে ইনজুরি টাইমে বো-কিউং কিমের গোলে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। আর্সেনাল এ রাউন্ডের খেলাগুলো শেষে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। সমান ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুল দ্বিতীয় এবং চেলসি আছে চতুর্থ অবস্থানে। শিরোপাধারীরা আছে ২১ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে।