‘নিরাপদ ঘর, নিরাপদ সড়ক আর নিরাপদ কর্মক্ষেত্র চাই’ এমন প্রতিপাদ্য করে গতকাল পালিত হয়েছে বিশ্ব নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। জাতিসংঘ ও বিশ্ব নারী আন্দোলনের ঘোষণা অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয় দিনটি। একই সাথে আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। এবছর থেকে প্রত্যেক মাসের ২৫ তারিখ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধের দাবিতে বিশ্বব্যাপী কমলা ব্যাচ ধারণ করা হবে এবং দিবসটি হবে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। পক্ষকাল ব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যমে সকল প্রকার সহিংসতা প্রতিরোধের প্রত্যয় ঘোষণা করেন নারী নেতৃবৃন্দ।
‘নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূল করতে হবে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ফতোয়াসহ সকল প্রকার নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রচারণা মূলক নানা পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। পর্যায়ক্রমে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা আয়োজন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ উপলক্ষে স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট’র উদ্যোগে গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়ক দ্বীপে আয়োজন করা হয় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনাসভার। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন। ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন জন্টা ক্লাব অব ডিস্ট্রিক্ট ২৫ দিবসটি উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। বনানীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দিলরুবা আহমেদ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা দূর করণের কার্যক্রম ঘর থেকে শুরু করার আহবান জানান। এসময় বাংলাদেশে অবস্থিত জন্টার ৬টি ক্লাবের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
নারী নির্যাতন নির্মূলকরণে আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান পক্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ এবং ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি বিভাগ যৌথভাবে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক র্যালির নেতৃত্ব দেন।
