নাব্যতা সংকট ও জবর দখলে বিপন্ন উখিয়ার রেজু খাল

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৪, ২১:৫৪
উখিয়ার ঐতিহ্যবাহী জোয়ার-ভাটার খরস্রোতা রেজু এখন মরাখালে পরিণত হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন, অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ দিয়ে চাষাবাদ, খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে এ খালটি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নব্যতা সংকটে এ খালে এখন আর জোয়ার-ভাটা আসে না। সীমান্তের জিরো পয়েন্ট ওয়ালিদং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সৃষ্টি হয়ে এ রেজু খালটি এঁকেবেঁকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন হয়ে রাজাপালং ইউনিয়নের সীমানা ঘেঁষে রত্নাপালং ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরে এ খালটি বৃহত্তর হলদিয়াপালং ইউনিয়ন হয়ে জালিয়াপালং ইউনিয়নের মধ্যভাগ দিয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এ খালে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা ছিল। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বালি উত্তোলনের অভিযোগে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বালি ভর্তি ট্রাক আটকসহ নিয়মিত মামলা রুজু করলেও বালি উত্তোলন থামছে না। রেজু খালের মোহনা ইনানী ও নিদানিয়া এলাকায় রেজু খাল দখল করে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন চৌধুরী জানান, রেজু খাল দখল করে ব্যক্তি মালিকানাধীন বসত বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ফলে প্রকৃতির উপর হস্তক্ষেপের শামিল হয়েছে। উপজেলা বিএডিসির প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, গত অর্থ বছরে রেজু খালের মোহনা ছেপটখালী এলাকার কিছু অংশ খনন করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এ খনন কাজ আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে জোয়ার-ভাটার উপর প্রভাব ফেলেছে। তাই এ খালে জোয়ার-ভাটা হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম জানান, এ খালটির পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অচিরেই ভ্রাম্যমান অভিযানের ধারাবাহিকতায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদসহ খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।