এক মার্কিন তরুণীর স্বীকারোক্তি

২২ খুনের পর গোনা বন্ধ করে দিয়েছি!

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৪, ২২:০৬
বিশ্বাস করবেন নাকি অবিশ্বাস করবেন সেটা নিজের ব্যাপার। বিশ্বাস করতে অবশ্যই কষ্ট হবে। কিন্তু এটা সত্যি, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিজেই স্বীকার করেছে সে কতগুলো খুন করেছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারে না। প্রথম বাইশজনকে খুন করা পর্যন্ত সংখ্যাটা তার মনে আছে। কিন্তু তারপর গোনা বন্ধ করে দেয়। তার ধারণা হয়তো খুনের সেঞ্চুরি পার করে ফেলেছে সে! সদা হাসিখুশী এই সুন্দরী তরুণীকে দেখলে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না তার ভেতর এমন এক নৃসংশ মানুষ বাস করে। তার প্রিয় চরিত্র ‘শয়তান’। সে শয়তানকে ভালোবাসে। মনেপ্রাণে তাকে ‘সুপার হিরো’ বলে মান্য করে। মানুষ খুন করা তার কাছে সবচে আনন্দদায়ক কাজগুলোর মধ্যে একটি। সে যাদের খুন করেছে তাদের অনেকের সাথেই তার ব্যক্তিগত কিংবা পরিবারগত কোনো শত্রুতা নেই। খুন হবার আগে অনেকে জানতেই পারেনি কেন তাকে খুন করা হচ্ছে। ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা লুটপাটের জন্য সে খুন করতো না। খুন করে সে স্রেফ মজা পেতো। তার শিকারদের সে ডেকে আনতো ইন্টারনেটে পরিচয় করে। সুন্দরী এই তরুণীর ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ আহ্বান অনেক পুরুষ উপেক্ষা করতে পারতো না। যখন বুঝতে পারতো ফাঁদে পা দিয়েছে তখন আর কিছু করার থাকতো না। পালানোর চেষ্টা করার আগেই ছুরির আঘাতে ফালাফালা! খুন করার জন্য তার প্রিয় একটা ছুরি আছে। সেটি সে নিয়মিত শান দেয়। যত্ন করে ধোয়ামোছা করে ঝকঝকে তকতকে করে রাখে। তার নাম মিরান্ডা বার্বার। যুক্তরাষ্ট্রে সে এখন আলোচিত এক নারী। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে সানবারিতে একটি বাড়ির পিছন থেকে ৪২ বছরের ট্রয় লাফেরারার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতের মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখে। সেখান থেকেই পুলিশ মিরান্ডা বার্বার নামে এক তরুণীর পরিচয় পায়। মিরান্ডাকেই শেষ বারের মতো ফোন করেছিলেন ট্রয়। এরপর পুলিশ মিরান্ডাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করে পুলিশ। অবশেষে ঝুলি থেকে বেড়াল বের করে মিরান্ডা। যা শুনে যে কেউই আঁতকে উঠতে পারেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিরান্ডা জানিয়েছে, শুধু ট্রয়কেই নয়। বরং গত ৬ বছরে ট্রয়ের মতো প্রায় একশজনকে হত্যা করেছে সে। একটি সংবাদ সংস্থাকে দেয়া নিজের সাক্ষাত্কারেও এমন দাবি করেছে মিরান্ডা। তবে সংখ্যাটা ঠিক মনে করতে পারল না সে। কারণ ২২টি খুনের পরই মিরান্ডা গোনা বন্ধ করে দেয়। ফলে ঠিক কতজনকে সে খুন করেছে, তা জানাতে পারেনি। ট্রয় লাফেরারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানা গিয়েছে যে, হত্যায় মিরান্ডার স্বামীও যুক্ত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মিরান্ডার ‘খুনের মেধা’ জানার পর স্বামীও তার সঙ্গে একত্রে মিলে কাউকে হত্যা করার ‘আনন্দ’ উপভোগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। ঘটনার তিন সপ্তাহ আগেই ২২ বছরের ওই যুবককে বিয়ে করে মিরান্ডা। এরপরই তারা নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে পেনসিলভেনিয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রয়কে গাড়িতে আটকে রাখে মিরান্ডার স্বামী, তারপর মিরান্ডা তার শরীরে ২০ বার ছুরির কোপ বসায়। জানা গেছে, ক্রেইগসলিস্ট নামে একটি সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ‘বন্ধুত্ব’ এর জন্য বিজ্ঞাপন দেয় মিরান্ডা। তাকে ‘সঙ্গ’ দেয়ারও লোভ দেয়। সেই ফাঁদে পা দিয়ে নির্ধারিত স্থানে হাজির হয় ট্রয়। এরপর স্বামী স্ত্রী মিলে খুন করে ট্রয়কে। মিরান্ডা জানিয়েছে, ১৩ বছর বয়সে প্রথম খুন করে সে। তখন থেকেই একটি গুপ্তসমিতির সদস্যপদ গ্রহণ করে। গত ৬ বছরে আলাস্কা, টেক্সাস নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় এই খুনগুলো করে সে। পুলিশ সেই সমস্ত অঞ্চলে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অপরাধ বিশেষজ্ঞ জ্যাক লেভিন বলেন, সুন্দরী মিরান্ডা একজন সিরিয়াল কিলার। সুন্দরী, স্মার্ট ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ায় তার পক্ষে শিকার যোগাড় করা খুব সহজ কাজ ছিল। পুরুষদের সে অতি সহজে তার বাসায় কিংবা যে কোনো স্থানে ডেকে নিয়ে যেতে পারতো। তার খুন করার স্টাইলও খুব নৃসংশ। মৃত্যু নিশ্চিত হবার পরেও সে মৃতদেহের শরীরে অসংখ্য ছুরির কোপ বসাতো। তিনি বলেন, খুব কম নারীই সিরিয়াল কিলার হয়ে থাকেন। তবে এ পর্যন্ত যে কয়েকজন নারীকে খুন করতে দেখা গেছে তাদের মধ্যে খুব কম জনকেই ছুরি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তারা সাধারণত পিস্তল ব্যবহার করে। একটি কিংবা দুটি গুলি করে পালিয়ে যায়। কিন্তু মিরান্ডা সবগুলো খুন করেছে ছুরি দিয়ে। তাও অভিনব কায়দায়। মৃতদেহের রক্তমাংশে নিজের শরীর ভিজে না যাওয়া পর্যন্ত সে ছুরির কোপ বন্ধ করে না। মার্কিন আদালতে মিরান্ডার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত মাসে। সে আদালতের কাছে অনুরোধ করেছে তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিতে। কারণ হিসেবে সে বলেছে, মৃত্যুদণ্ড খুব কষ্টের!