আরিয়েন রবেনের হ্যাটট্রিকে ১০ জনের শালকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বুন্দেসলিগায় আরো এগিয়ে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। এই নিয়ে চারদিনে ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মত বড় ব্যবধানে পরাজিত হলো লীগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকা শালকে। আর লিগের ২৩ তম রাউন্ড শেষে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের চাইতে ২০ পয়েন্টের অগ্রগামিতা বজায় রেখে ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেল বায়ার্ন।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় নিজেদের দর্শকদের সামনে এই জয়ে বায়ার্ন তাদের লীগ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে নিয়ে গেল ৪৮ ম্যাচে। আর এ মৌসুমে এটা তাদের টানা পঞ্চদশ জয়। ২০১২ সালের অক্টোবরের পরে বায়ার্ন আর লীগে কোন ম্যাচে পরাজিত হয়নি। ২৩ ম্যাচে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে বায়ার্ন যথারীতি রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। আর ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে গতবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ রানার্স আপ বরুশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে। বায়ার্নের জয়ের নায়ক রবেন ম্যাচ শেষে জানালেন নিজের এবং দলকে নিয়ে তার উচ্ছ্বাসের কথা। এই ডাচ উইঙ্গার বলেন, ‘আজকের ম্যাচ বলটি হাতে পেয়ে আমার ছেলেরা খুব খুশী হয়েছে, আমার বাচ্চারা আমার সবচেয়ে বড় ভক্ত। আমরা বেশ আগ্রাসন নিয়ে আজ খেলেছি এবং নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করেছি। এখন আমরা শিরোপার বেশ কাছে পৌঁছে গেছি। বিশেষ করে বড় ম্যাচগুলোতে যে ধরনের ইতিবাচক মনোভাব থাকা দরকার সেটা আমাদের মধ্যে এখন আছে। আর এই মানসিকতা চ্যাম্পিয়নস লীগের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’
তিন মিনিটের মধ্যেই ফ্রি-কিক থেকে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন লেফট ব্যাক ডেভিড আলবা। এরপর ১৫ ও ২৮ মিনিটে রবেন দুটি গোল করেন। এর মাঝে অবশ্য আলবার ক্রস থেকে মারিও মানজুকিচ দুর্দান্ত এক হেডে বায়ার্নকে আরো এগিয়ে দেন। বিরতির আগ পর্যন্ত এই চার গোলেই এগিয়ে ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ৬৪ মিনিটে জেফারসন ফারফানেসের কর্নার থেকে মিউনিখের রাইট ব্যাক রাফিনহা আত্মঘাতী গোল করলে শালকে একটি গোল উপহার হিসেবে পায়। নিয়মিত অধিনায়ক ফিলিপ লামের পরিবর্তে কাল বায়ার্নকে নেতৃত্ব দেন রাফিনহা। ৭৭ মিনিটে গোল এরিয়ার মধ্যে মানজুকিচকে ফাউল করার দায়ে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সফরকারীদের গ্রীক সেন্টার ব্যাক কিরাকোন পাপাডোপোলাস। স্পট কিক থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রবেন।
লীগে এখনো ১১টি ম্যাচ বাকি। তবে সামপ্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় বায়ার্নকে শিরোপাধারি হিসাবে ধরে নিচ্ছেন অনেকেই। ধারণা করা হচ্ছে, মার্চের শেষ নাগাদ ২৪ তম বারের মত জার্মান লীগের শিরোপা বায়ার্নের ঘরেই যাবে। কিন্তু ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ পেপ গার্দিওলা শিরোপা নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
এর আগে দিনের অপর ম্যাচে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ঘরের মাঠে নুরেমবার্গকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছ এসেছে। কিন্তু ঘরের মাঠে মেইঞ্জের বিপক্ষে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বায়ার লিভারকুসেন। এটি ছিল লিভারকুসেনের টানা পঞ্চম এবং শেষ ১০টি ম্যাচে অষ্টম পরাজয়। —বাসস/এএফপি
