দেশের নয় ভাগ মানুষ বধিরতায় ভুগছে

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৪, ২২:১৯
‘বাংলাদেশে শতকরা নয় ভাগ মানুষ বধিরতায় ভুগছে। কানে আঘাতের কারণে কিংবা শিশু জন্মের পূর্বে মার্তৃগর্ভে থাকাবস্থায় মায়ের রুবেলাসহ বিভিন্ন ইনফেকশন, মায়ের অপুষ্টি ও রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়র মধ্যে বিবাহ বা কাজিন ম্যারেজের কারণে শিশু জন্মবধিরতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। কর্ণসেবা প্রসারের মাধ্যমে অনেক বধিরতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।’ গতকাল রবিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মিলন হলে আন্তর্জাতিক কর্ণসেবা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ। বিএসএমএমইউ’র নাক-কান-গলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ আবুল হাসনাত জোয়ারদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমডিসি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবু সফি আহমেদ আমিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএমএমইউ’র সহযোগী অধ্যাপক ডা. এএইচএম জহুরুল হক। সেমিনারে বক্তারা বলেন, কানে কখনো চড় বা ঘুষি মারা উচিত নয়। কারণ এতে কানের পর্দা ফেটে যায় এবং মারাত্মক বধিরতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া অযথা কান খোঁচানো উচিত নয়। বক্তারা আরো বলেন, নগরায়নের সাথে সাথে শব্দ দূষণের পরিমাণ বাড়ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শ্রবণশক্তি। শিল্প এলাকার শব্দ ছাড়াও কমিউনিটি নয়েজ এখন চিন্তার বিষয়। গাড়ির হর্ন ও মোটর যানের শব্দ, মহল্লায় ইট ভাঙ্গার মেশিনের শব্দ, মাইকের শব্দ এই শব্দ দূষণকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত বা বাড়িতে সৃষ্ট বিভিন্ন শব্দ শ্রবণ শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। উচ্চ আওয়াজে মোবাইল রিং টোন বাজানো, হেড ফোন দিয়ে উচ্চ শব্দে গান শোনা, উচ্চ শব্দে টেলিভিশন এবং রেডিও চালানো উচিত না। সেমিনারে জানানো হয়, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে সারাবিশ্বে ৩৬ কোটি প্রতিবন্ধী ধরনের বধিরতায় ভুগছে। শতকরা হিসাবে এর সংখ্যা ৫ দশমিক ৩ ভাগ। এর মধ্যে কমপক্ষে অর্ধেক বধিরতা প্রতিরোধযোগ্য। এ বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বছরের মার্চ মাসের তিন তারিখে কর্ণসেবা দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘কর্ণসেবা বধিরতা প্রতিরোধ করতে পারে’।—প্রেস বিজ্ঞপ্তি