বাংলাদেশের শিশু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম। তারা ২০১৩ সালের শিশু পরিস্থিতির ওপর একটি জরিপ চালিয়ে দেখেছেন, শিশুর উপর সহিংসতার মাত্রা যেমন বেড়েছে তেমনি যোগ হয়েছে ভিন্ন ধরনের সহিংসতার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়- রাজনৈতিক কর্মসূচি হরতাল ও অবরোধে শিশুর হাতে ককটেল ও বোমা ধরিয়ে দিয়ে সহিংসতা ঘটানো। তারা বলেছেন, সরকারি-বেসরকারি, নাগরিক সমাজ, দায়িত্বশীল সকল মহলের উচিত শিশুকে এ ধরনের নির্যাতন থেকে রক্ষা করে স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা বিধান করা।
পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তারা বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ২০১৩ সালে হরতাল ও অবরোধে সহিংসতার শিকার হয়েছে ২৮ শিশু। এদের মধ্যে ৬ জন নিহত হয়েছে এবং ২২ জন দীর্ঘদিন চিকিত্সাধীন থেকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের ক্ষমতা হারিয়েছে। নিহতদের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ক্ষমতাসীন দল ও হরতাল অবারোধকারীদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের মধ্যে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ১ জন। ১৬ জন শিশু ককটেল বিস্ফোরণে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়েছে। বিবদমান দলগুলোর সরাসরি ককটেল নিক্ষেপে যেমন শিশুরা আহত হয়েছে, তেমনি টেপ পেঁচানো অবিস্ফোরিত ককটেলকে খেলার সামগ্রী ভেবে খেলতে গিয়েও বিস্ফোরণে শিশুরা আহত হয়েছে। দুইটি ঘটনায় বোমা বানাতে গিয়ে এবং বোমা বহন করতে গিয়েও বিস্ফোরণে শিশু আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু পরিস্থিতি ২০১৩’ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ফোরামের সদস্যরা এসব কথ্য জানান। তারা বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া ঘটনা থেকে তারা এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফোরামের পরিচালক এস এম মাহমুদ। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ফোরামের চেয়ারপারসন মো. একরামুল হক ও ফোরামের বোর্ড মেম্বার মো. মাহমুদুল হক।
এস এম মাহমুদ বলেন, ২০১৩ সালে ১৫০ শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার তথ্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা অন্যান্য বিবাদের কারণে ১৮০ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। ৭৬ জন যৌন হয়রানি ও অন্যান্য কারণে আত্মহত্যা করেছে। ৪২ জনকে অপহরণ করা হয়েছে, যাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অপহূত ৩৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৯ জনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। পাচার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৬ শিশুকে। উল্লেখ্য যে, পাচার থেকে উদ্ধার হওয়ার পরই এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।
এছাড়া ২৫ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকলেও ১৭০ শিশু শিক্ষাঙ্গনে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবর মাসে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙা স্কুলে প্রধান শিক্ষকের হাতে ১০০ শিশু প্রহূত হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুর সংখ্যা ১৪৯। আগুনে পুড়ে ২২ জন এবং তড়িতাহত হয়ে মারা গেছে ১৪ শিশু। নিহত শিশুর মধ্যে ২য় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। ২০১৩ সালে ১৩২ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।
