বিজয়ের গল্প : ডিসেম্বরের পর মার্চ!

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৪, ২২:১২
চরম হতাশা ছিল, ছিল চোখ ভরা বিস্ময়। সমর্থকদের আকাঙ্খা ছিল, ছিল বোর্ডেও কড়া নজরদারি। প্রতিপক্ষ ছিল আগের ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে নাটকীয় এক ম্যাচে হারানো পাকিস্তান। অনেকটা যুদ্ধের মঞ্চে ব্যাট করতে নেমেই ৫০ ওভারে মাত্র তিনটি উইকেট হারিয়ে ৩২৬ রান! অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে। রানের চূড়ায় ওঠার সংগ্রামে ছিলেন মুশফিক, ছিলেন প্রায় আড়াই বছর পর রঙিন জার্সি গায়ে চাপানো ইমরুল কায়েস, ছিলেন মুমুিনুল হক, ছিলেন তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা সাকিব আল হাসান। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে গেলেন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিলেন এনামুল হক বিজয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই ৪২ রান দিয়ে তার আবির্ভাব। সময়টা ২০১২ সালের ডিসেম্বর। পরের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে হয়ে গেলেন জয়ের নায়ক। এরপর দীর্ঘদিনের বিরতি। পরীক্ষার বিরতি আর অফ ফর্ম মিলিয়ে দলে জায়গা নিশ্চিত করতেই টানাটানি পড়ে গেল। কপাল খুললো মুশফিকের ইনজুরিতে। উইকেট রক্ষকের অভাব মেটাটেই নিয়মিত হলেন একাদশে। কিন্তু এক দায়িত্বে সন্তুষ্ট থাকলেন না এনামুল হক বিজয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অল্পের জন্য দলের জয় আনতে পারেননি। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে ৭৭ রানের ইনিংসটিও ঢাকা পড়ে গিয়েছিল অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরির আড়ালে। কিন্তু এবার আর পার্শ্বচরিত্র হয়ে থাকতে হল না। পাকিস্তানের বিপক্ষে গতকাল মঙ্গলবার পেলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বিজয়ের মাসের পর এবার স্বাধীনতার মাসে চড়াও হল বিজয়ের ব্যাট। আর তাই এই ওপেনারের দারুণ এক কার্যকর ইনিংসের পর বাংলাদেশের ইনিংস গিয়ে ঠেকলো ৩২৬ রানে। বিজয়ের সবচেয়ে বড় তোপটা গেল পাকিস্তানি পেসার তালহার উপর দিয়ে। ইনিংসের ১৬তম ওভারের শেষ চারটি বল খেলার সুযোগ পেয়ে রান তোলেন ১৬! দিন শেষে সব মিলিয়ে আগের দিন ভারতের বিপক্ষে অভিষিক্ত এই ক্রিকেটারের বোলিং ফিগারটাও হয়ে উঠলো ভয়াবহ! ১০ ওভারে ৬৮ রান দিয়ে একটি উইকেট। ওভার প্রতি রান রেট ৯.৭১! ৩৯তম ওভারে ১৩১ বলে আসে বিজয়ের সেঞ্চুরি। ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও চারটি ছক্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটা কোন বাংলাদেশি ব্যাটসমানের তৃতীয় সেঞ্চুরি। বাকি দুজন হলেন সাকিব আল হাসান ও নাসির হোসেন। সেঞ্চুরি করার পর যে বলটাতে মুখোমুখি হলেন তাতেই আউট। তবে কাজের কাজটা ততক্ষণে হয়েই গেছে!