বীমার শব্দটা শুনলেই দানবীয় গতির ফাস্ট বোলারের গতি থেকে ছুটে আসা বুক সমান উচ্চতার গোলার কথা মনে হয়। স্পিনারদের কাছ থেকে বীমার দেখাটা খুব একটা নিয়মিত ঘটনা অন্তত নয়। তবে আব্দুর রেহমানকে কথাটা বললে তিনি রাগ করতে পারেন। কোনো বল না করেই দুটি বীমারসহ তিনটি নো-বল করে ফেললেন পাকিস্তানী এই স্পিনার। ফলে এমসিসির আইন অনুযায়ী এই ম্যাচে কোনো নির্ভুল ডেলিভারি না করেই নিষিদ্ধ হয়ে গেলেন।
এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দুই বীমার করে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ভারতীয় বোলার বরুন অ্যারন।
এদিন ইনিংসের ১১তম ওভারে বল করতে এসেছিলেন রেহমান। প্রথম ডেলিভারিটাই এমন উচ্চতার ফুলটস করলেন যে, আম্পায়ার বীমার বলে চিহ্নিত করতে সময় নিলেন না। পরের বলে আবার কোমর উচ্চতায় ফুলটস। এই যাত্রাও কেন রেহমানকে সাসপেন্ড করা হল না, সে নিয়ে ধারাভাষ্যকাররাও বিস্ময় প্রকাশ করলেন। তবে পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল হকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করে শুধু নো-বল ডেকেই রেহাই দিলেন আম্পায়ার।
এমসিসির আইন এই অধিকার দিয়েছে আম্পায়ারকে। এমনকি বীমার কী না, সেটা সনাক্ত করার দায়িত্ব আম্পায়ারের। ব্যাটসম্যানের জন্য বিপজ্জনক এমন ফুলটসকে বীমার ডাকার কথা। তবে স্পিনাররা একটু ছাড় পান এই আইনে। ৪২.৬.বি ধারার এই আইনে বলা হয়েছে, পেসাররা কোমর উচ্চতাতে ফুলটস দিলে বীমার গণ্য হবে। আর স্পিনারদের ক্ষেত্রে সেটা কাঁধ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারে। আর যেভাবেই হোক, দুটি বীমার এক ম্যাচে করলেই সেদিন নিষিদ্ধ হবেন বোলার।
রেহমান নিষিদ্ধ হবেন বলে প্রতিজ্ঞাই করে নেমেছিলেন। টানা তৃতীয় বলে আবারও কাঁধ উচ্চতার ফুলটস করলেন এবং এনামুল চার মেরে দিলেন। এবার আর আম্পায়ার তাকে ‘না’ না বলে পারলেন না। ফলে কোনো বল না করে সর্বোচ্চ রান খরচের রেকর্ড করে ফেললেন রেহমান। এর আগে কলিন্স ওবুইয়া কোনো বল না করে ৫ রান দিয়ে ফেলেছিলেন; তাকে অবশ্য টানা বীমারের দায়ে নিষেধাজ্ঞা পেতে হয়নি।
শেষ পর্যন্ত রেহমানের বোলিং ফিগারটা দাঁড়ালো—০-০-৮-০!
