শখ অভিনীত প্রথম টিভি নাটক হলো—
দিদারুল আলম বাদলের পরিচালনায় একখণ্ডের নাটক ‘স্বাক্ষর’। এরপর তিনি ‘ভূতের গলি’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন।
পরবর্তীতে অসংখ্য টিভি নাটকে ভালো অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।
অভিনয়, মডেলিং ও নাচ—সব ক্ষেত্রেই নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন শখ। তাই মিডিয়ায় তার একটা শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। তাকে নিয়ে নির্মাতাদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। অভিনয় নিয়েই শখ আগামীর পথ চলতে চান। এই প্রতিভাময়ী তরুণীকে নিয়ে লিখেছেন
খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক
প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে মডেলিংয়ের পাশাপাশি নাটক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করে শখ দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এরই মধ্যে বড় পর্দাতেও পা রেখেছেন। ক্যারিয়ারের স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই তিনি জনপ্রিয়তার অর্জন করেছেন। মিডিয়ায় নিজের ভালো অবস্থাকে স্থায়ী রূপ দিতে এখনও তিনি ছুটে চলছেন দুর্বার গতিতে। তার বিশ্বাস, শতভাগ পরিশ্রম ও নিখুঁত অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে অসাধ্যকে সাধন করা সম্ভব। শখের বয়স যখন চার কি পাঁচ বছর। সে সময় থেকেই তিনি বাসায় একা একা নাচতেন। নাচের প্রতি মেয়ের প্রবল আগ্রহ দেখে বাবা তাকে কচিকাঁচার মেলায় ভর্তি করে দেন। এরপর শিশু একাডেমী ও বুলবুল ললিতকলা একাডেমীতে বেশ ক’বছর নৃত্যে তালিম নেন শখ। খুব দ্রুত নাচের মুদ্রা আয়ত্ত করার কারণে অল্পদিনেই তিনি নৃত্যশিক্ষকদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন। এরপর সময়ের পালে মিডিয়ারও প্রিয় মুখে পরিণত হন। কেননা প্রতিদিন টিভি খুললেই তার হাসিমাখা মুখটি দেখা যায়। খুব অল্প সময়ে আপন প্রতিভায় লাইম লাইটে উঠে এসেছেন তিনি। মিডিয়ার সর্বত্রই এখন তার বিচরণ। মডেলিংয়ের মাধ্যমেই শখের মিডিয়ায় অভিষেক হয়েছিল। এরপর নাটক এবং চলচ্চিত্রে তিনি কাজ শুরু করেন। মডেল হিসেবে প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেই সবাইকে চমকে দেন শখ। চিত্রনায়ক রিয়াজের সঙ্গে তাকে অনবদ্য ভঙ্গিতে একটি কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। বাংলালিংকের দেশ সিরিজের নাচে-গানে ভরপুর একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়ে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। শখ নিজেও এ বিজ্ঞাপনটিকে তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করেন। বাংলালিংকের সিরিজ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় ‘সানসিল্ক’, ‘ক্লোজআপ’, ‘প্যারাসুট হেয়ার অয়েল’, ‘ফেয়ার এভার ফেয়ারনেস ক্রিম’, ‘ইউরো লেমন’, ‘নকিয়া’, ‘ওয়ালটন’সহ বেশ কিছু মানসম্মত প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনচিত্রে নিজের প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়ে দেন। শখ অভিনীত প্রথম টিভি নাটক হলো— দিদারুল আলম বাদলের পরিচালনায় একখণ্ডের নাটক ‘স্বাক্ষর’। এরপর তিনি ‘ভূতের গলি’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে অসংখ্য টিভি নাটকে ভালো অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। শখ অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—‘এফএনএফ’, ‘ফিফটি ফিফটি’, ‘জবের ব্যাপার’, ‘দিবারাত্রি খোলা থাকে’, ‘ট্রিটমেন্ট’, ‘অল দ্য বেস্ট’, ‘কাজের রঙ’, ‘মুন্সিবাড়ি’, ‘ইউনিভার্সিটি’ প্রভৃতি। বর্তমানে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে শখের কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্র। মডেলিংয়ে তার দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখে যেমন সবাই মুগ্ধ হয়, তেমনি অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তাকে পুরোদস্তুর অভিনেত্রী বলা যায়। বিভিন্ন নাটকে চরিত্রের ভেতর ঢুকে তাকে বের করে আনার ক্ষেত্রে যে দক্ষতা তিনি দেখিয়েছেন, তাতে দর্শকদের পছন্দের তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশি সময় লাগেনি। অভিনয়টাকে তিনি শিল্প হিসেবেই দেখেন। তার ভাষ্যে, ‘অভিনয়টা সাধারণ কোনো কাজ নয়। এটি একটি শিল্প। আর এই শিল্প তিলে তিলে গড়ে তোলেন অভিনয়শিল্পীরাই। তাই শিল্পের মান রক্ষায় অভিনয়শিল্পীদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হয়।’ মাত্রাতিরিক্ত শুটিং ব্যস্ততা কাজের মান খারাপ করে দেয় কিনা এ প্রসঙ্গে শখ বলেন, ‘কিছুটা তো করেই। তবে এর বেশির ভাগটাই নির্ভর করে শিল্পীর ওপর। শিল্পী কীভাবে তার ব্যস্ততাকে সমন্বয় করে তার ওপর এবং মানের বিষয়টি নির্ভর করে। যারা অধিক ব্যস্ত হয়েও সমন্বয়টা করতে পারে তাদের অভিনীত নাটকগুলোর মান অতটা নিচে নামে না যতটা বলা হয়। আমি চেষ্টা করি সমন্বয় করে চলার। কতটা সফল তা দর্শকরাই বলতে পারবে।’ সম্প্রতি শেষ করলেন রহমতুল্লাহ তুহিনের পরিচালনায় একখণ্ডের নাটক ‘নাগরিক বুনোফুল’ এবং বিইউ শুভর ‘চতুষ্কোণ’ নাটকের কাজ। এমবি মানিকের পরিচালনায় ঢালিউড কিং শাকিব খানের সঙ্গে প্রথম ছবি ‘বলো না তুমি আমার’-এর মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন শখ। রুপালি পর্দার আলোচিত সেই ছবিটি ব্যবসায়িক সাফল্য পেলেও চলচ্চিত্রে তীব্র নায়িকা সংকট ও অসংখ্য ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাবের মাঝে শখ নিজেকে ভাসিয়ে দেননি গতানুগতিক ধারার চলচ্চিত্রের ভিড়ে। একটু গুছিয়ে নিয়ে সানিয়াত হোসেন পরিচালনায় ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’তে সুপার হিরো নিলয়ের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। টিভি নাটক, বিজ্ঞাপনে জুটি বাঁধলেও নিলয়-শখ প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে একসাথে অভিনয় করছেন। রোমান্টিক কমেডিনির্ভর কর্মাশিয়াল এই ছবির গল্পে দেখা যাবে, মিশা নামকরা কিলার। তার কাজ টাকার বিনিময়ে কিডন্যাম্প ও খুন করা। ঘটনাচক্রে নিলয়কে কিডন্যাপ করে সে। সেই সূত্র ধরে ছবির গল্প সামনে আগাতে থাকে। এক পর্যায় ভিলেন ও নায়কের কিছু বিষয় ফাঁস হয়ে যায়। নায়ক সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। পালানোর বিষয়টি বুঝতে পেলে নিলয়কে মারধর করে মিশা। এক সময় নিলয় মিশাকে নিজের জীবনের গল্প বলে। গল্পের মধ্য থেকে রোমান্টিক প্রেমের কাহিনী বের হয়ে আসে। ভিলেনের অদ্ভুত চেঞ্জের কারণে ছবির নামের সার্থকতা বেরিয়ে আসে। এই চলচ্চিত্র নিয়ে শখ বলেন, ‘এই ছবির গল্প সত্যিই চমত্কার। গল্পটি এ সময়ের তরুণ-তরুণীদের মনে বেশ প্রভাব ফেলবে বলে আমার বিশ্বাস।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভালো গল্প আর ছবি হলে আমার চলচ্চিত্রে অভিনয়ে কোনো আপত্তি নেই। প্রথম ছবির পর এখন অবধি আমার কাছে যে কয়টি ছবির প্রস্তাব এসেছে তার কয়েকটির গল্প খুবই বাজে, কয়েকটি ছবি ভালো না আবার কয়েকটি শুধু নায়ককেন্দ্রিক। এখানে আমি তানিয়া নামের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমি বেশি ছবিতে অভিনয় করার পক্ষে না। এক-দুই বছরে একটি ছবিতে অভিনয় করব, এতেই যথেষ্ট।’ শখ-নিলয় জুটির ছবি ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’-এর শুটিং ও ডাবিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ছবিটি মুক্তি অপেক্ষায় রয়েছে। জনপ্রিয়তা অর্জন করার পর অনেক তারকার মাঝেই অহঙ্কার চলে আসে। তবে শখ একটু ব্যতিক্রম। একেবারেই সাদাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত তিনি। নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে মিডিয়াতে বেশ শক্ত স্বকীয় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলেই নির্মাতাদের কাছে তার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। শুধু নির্মাতারাই যে শখকে নিয়ে ভাবেন তা নয়। তাকে নিয়ে কাহিনীকাররাও ভিন্ন ধরনের গল্প রচনা করেন। সবমিলিয়েই এই সময়ের একজন নির্ভরযোগ্য তারকায় পরিণত হয়েছেন তিনি।
