মুখোমুখি মাধুরী-জুহি

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২০:২০
মাধুরী দীক্ষিত ও জুহি চাওলা। নব্বইয়ের দশকে বলিউডে দুর্দান্ত দাপটে রাজত্ব করেছেন দু’জনে। হিন্দি সিনেমার অগণিত দর্শক তাদের অভিনয়ে, পর্দা উপস্থিতিতে আবিষ্ট ছিলেন দীর্ঘদিন। জনপ্রিয়তার দৌড়ে দু’জনেই ছিলেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। বলিউডের অনেক শীর্ষ চিত্রনির্মাতা মাধুরী ও জুহিকে একসঙ্গে একই ছবিতে নিতে উদ্যোগও নিয়েছিলেন। তখন অসংখ্য দর্শক তাদেরকে একসঙ্গে একই ছবিতে দেখতে উদগ্রীব হলেও তা শেষ পর্যন্ত আর হয়ে ওঠেনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওার পর প্রথমবারর মতো তারা দু’জন একই ছবিতে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন। রুপালি পর্দার মাধুরী-জুহির একসঙ্গে অভিনয় দর্শকমনে আগাম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই ছবিতে মাধুরী-জুহির পরস্পরের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন ১৯৮৪-তে ঢালিউড অভিনেতা তাপস পালের বিপরীতে ‘অবোধ’ ছবির মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়েছিল মাধুরী দীক্ষিতের। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭। এরপর পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। এখন মাধুরীর বয়স ৪৬ চলছে। ৯০-এর দশকজুড়ে বলিউডে রাজত্ব করেছেন তিনি। একের পর এক সুপার হিট ছবিতে নায়িকা সেজেছেন। হিন্দি সিনেমার কোটি কোটি দর্শককে মোহাবিষ্ট করে রেখেছিলেন তিনি। বলিউডে শীর্ষ জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে একটানা অনেক দিন নিজের উজ্জ্বল অবস্থান ধরে রাখার কৃতিত্ব আজও নতুন প্রজন্মের সফল নায়িকাদের জন্য আরাধ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। মাধুরী যখন বলিউডে শীর্ষ অভিনেত্রী গণ্য হয়েছেন একই সময়ে হিন্দি সিনেমায় জনপ্রিয়তার দৌড়ে তার প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন জুহি চাওলা। ১৯৮৪ সালে মিস ইন্ডিয়া সুন্দরী প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতে ১৯৮৬-তে ‘সালতানাত’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রেখেছিলেন তিনি। ১৯৮৮-তে ব্লকবাস্টার মুভি ‘কেয়ামত সে কেয়ামত’ জুহিকে রাতারাতি খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল। এরপর তার জীবনের অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে। মজার ব্যাপার হলো, মাধুরীর মতো জুহি চাওলার এখন বয়স ৪৬ চলছে। সমসাময়িক দুই জনপ্রিয় সুন্দরী সু-অভিনেত্রী মাধুরী-জুহিকে ঘিরে দর্শক মনে দুর্দান্ত ক্রেজ থাকলেও একই ছবিতে তাদের দুজনের একসঙ্গে অভিনয় করা হয়নি। জুহি তার অভিনয় জীবনে বলিউডের প্রায় সব নায়কের সঙ্গে অভিনয় করলেও সালমান খানের সঙ্গে আজও কোনো ছবিতে অভিনয় করেননি। মাধুরী এবং জুহি বিয়েশাদির পর সন্তানের মা হয়েছেন, স্বামী ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে একসময় তাদেরকে সিনেমায় অভিনয় থেকে ছুটি নিতে হয়েছে। বলিউডে তাদের ব্যস্ততা কমে আসায় উভয়েই অভিনয় জগত্ থেকে বিদায় নিয়েছেন কয়েকবার। আবার অভিনয়ের আকর্ষণের তারা ফিরে এসেছেন। এখন তাদের যে বয়স চলছে তাতে নায়ক কিংবা নায়িকার মা-খালার চরিত্র রূপায়নের কথা। কিন্তু এখনও মাধুরী কিংবা জুহিকে তেমন রোলে দেখা যায়নি কোনো ছবিতে। মাধুরী সর্বশেষ অভিনয় করেছেন ‘ঢের ইশকিয়া’ ছবিতে যেখানে তাকে একজন সুন্দরী আকর্ষণীয়া বিধবা নারীর চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। এ ছবিতে তিনিই ছিলেন কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে। গত বছরের বহুল আলোচিত ব্যবসাসফল ছবি ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’তে একটি আইটেম সংয়ে এই প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর কাপুরের সঙ্গে দুর্দান্ত নেচেছেন একসময়ের বলিউড সম্রাজ্ঞী। ওদিকে জুহি চাওলাকে ২০১২ সালে ‘সান অব সরদার’ ছবিতে সঞ্জয় দত্তের প্রেমিকা চরিত্রে দেখা গেছে। এ ছবিতে জুহির চমত্কার প্রাণবন্ত পর্দা উপস্থিতি দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। অতীতে নানা কারণে একসঙ্গে কোনো ছবিতে অভিনয় করা সম্ভব না হলেও ৪৬-এ পৌঁছে মাধুরী ও জুহি একসঙ্গে অভিনয় করেছেন ‘গুলাব গ্যাং’ ছবিতে। নারী চরিত্রকেন্দ্রিক ভিন্নধাঁচের এ ছবিতে মাধুরী অভিনয় করেছেন সমাজে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ একজন শক্তিশালী নারীর ভূমিকায়। যে একদল নারীকে সংগঠিত করে সমাজের অনিয়ম, অনাচার দূর করতে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়। জুহি চাওলা ‘গুলাব গ্যাং’ ছবিতে একজন অসত্ মহিলা রাজনীতিবিদের চরিত্রে রূপদান করেছেন। দুষ্ট চরিত্রের লোভী রাজনৈতিক নেত্রী হয়ে সাধারণ মানুষের সর্বনাশ করা তার কাজ। মাধুরী তার সব অপকর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বলতে গেলে এ ছবিতে মাধুরী নায়ক চরিত্রে এবং জুহি ভিলেন চরিত্রে অভিনয়ের দুর্দান্ত চমক নিয়ে আসছেন। প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে জুহি চাওলা বলেন, ‘যখন আমাকে ‘গুলাব গ্যাং’ ছবিতে ভিলেন চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল রেগেমেগে অস্থির হয়ে এ ছবির পরিচালক-প্রযোজককে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ছবিটির স্ক্রিপ্ট পড়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নিই মাধুরী দীক্ষিতের মুখোমুখি হবো আমি এ ছবিতে। এ ছবিতে আমি মন্দ চরিত্রের নারী রাজনৈতিক নেত্রী সুমিত্রা দেবীর চরিত্রে যথাসম্ভব সেরা অভিনয়ের চেষ্টা করেছি। যা আমার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। দর্শক ছবিটি দেখে এটা বিচার করবেন।’ ওদিকে মাধুরী দীক্ষিতও প্রথমবারের মতো জুহি চাওলার সঙ্গে অভিনয় করে দারুণ উচ্ছ্বসিত। অতীতের সব শত্রুতা-বিরোধ ভুলে তারা একসঙ্গে একই ছবিতে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করায় সাধারণ দর্শকও আনন্দিত। ‘আমরা দু’জন একটা সময়ে ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম। আমরা তখন ভালো ভালো কাজ করতে চেয়েছি। আমরা দু’জন পরস্পরের বান্ধবী ছিলাম না বটে, তবে যখনই আমাদের দুজনের দেখা হতো আমরা অন্তরঙ্গ হয়ে কথা বলতাম। শ্রীদেবীর বেলায়ও একই কথা বলব আমি। ‘গুলাব গ্যাং’ ছবিতে দর্শক জুহির সঙ্গে আমার মুখোমুখে অভিনয়ের দৃশ্যগুলো বেশ উপভোগ করবেন। আমরা দু’জনেই চেয়েছি অগণিত দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে’, মাধুরী বলেন।