নতুন, তবে সহজ...

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২০:২৪
নতুন ব্যান্ড মানেই নতুন ধারার আবির্ভাব। এমনটাই প্রত্যাশা করেন ব্যান্ডপ্রেমীরা। যদিও নতুনত্বের মোড়কে গতানুগতিকতা আবিষ্কারে শ্রোতারা প্রায়ই হতাশ হন নতুন ব্যান্ড নিয়ে। নিরাশা না ছড়িয়ে যে নতুন ব্যান্ডটি শ্রোতাদের মনোযোগ কেড়েছে তার নাম সহজিয়া। ব্যান্ডটির পথচলার গল্প নিয়ে লিখেছেন মুহম্মদ কবীর হাজার বছর আগের কথা। গৌতম বুদ্ধের অনুসারী কিছু মানুষের দলীয় পরিচয় ছিল ‘সহজিয়া’ নামে। যারা নিজেদের দার্শনিক চিন্তাকে চর্চা করতেন কবিতা আর গানে। ধর্মীয় এই গোষ্ঠী প্রকৃতি ও জীবন সংগ্রামের মাঝেই অস্তিত্বের উত্স খুঁজে পেয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন ‘চর্যাগীতি’তে তাদের চিন্তার উত্কর্ষের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রকৃতি, সুন্দর ও সহজের মাঝে সহজিয়ারা জীবনের অর্থময়তা খুঁজে পেয়েছিলেন। এই মানুষগুলোর মাঝে এই সময়ের কিছু তরুণ নিজেদেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। তারাও সহজিয়াদের মতো জীবনের সহজ অর্থের অন্বেষণে ছুটে বেড়ান গানের জগতে। আর তারা যখন ব্যান্ড গড়লেন তখন সঙ্গত কারণেই বেছে নিলেন ‘সহজিয়া’ নামটিকে। সহজিয়া ব্যান্ডের জন্ম ২০০৯ সালে। সহজিয়ার ভাষ্যে তাদের জন্ম ইতিহাসটি এ রকম, ‘আমাদের ব্যান্ড মেম্বাররা সবাই তখন মিরপুরে থাকতাম। সবাই গানবাজনার সাথেই জড়িয়ে ছিলাম। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে আসা-যাওয়ার পথে বা চায়ের দোকানে দেখা-সাক্ষাত্ হতো। টুকটাক কথাবার্তাও হতো। একসময় আমাদের মাঝে চিন্তার ঐক্য খুঁজে পেলাম। সবাই চাইছিলাম এ চিন্তাগুলোকে কাজে রূপ দিতে। আমরা তখন সবাই একটি কাজই পারতাম—গান-বাজনা করতে। তাই গানের মধ্য দিয়েই চিন্তাকে প্রকাশ করব বলে ঠিক করলাম। শুরু হলো আমাদের একসাথে পথচলা।’ নতুন ব্যান্ড হিসেবে কী ধরনের প্রত্যয় তখন কাজ করেছিল সহজিয়ার মনে? উত্তরে সহজিয়া বলল, ‘আমরা যেটা দেখি না, সেটা লেখি না। অর্থাত্ কোনো কাল্পনিক সত্যে সুরারোপের চেষ্টা আমাদের নেই। আর এই সততার উপরেই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের প্রতিটি গান। নাগরিক জীবনের জটিলতার সহজ সত্যকে আমরা গানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই গানের প্রতি সত্ থাকা।’ প্রথম দিকে সহজিয়া বিভিন্ন শো করার মধ্য দিয়েই তাদের তত্পরতা শুরু করে। তারা প্রথম শো’টি করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে। অপ্রত্যাশিত দর্শক সাড়া পেয়েছিলেন তখন। আর এই অনুপ্রেরণাই তাদের পরবর্তী শো করার সাহস জুগিয়েছিল। এরপর একের পর এক শোয়ের সাফল্য তাদের অ্যালবাম করতে উত্সাহিত করে। তারই ফলাফল, ২০১৩ সালের নভেম্বরে প্রকাশ হয় সহজিয়ার প্রথম অ্যালবাম ‘রঙমিস্ত্রী’। অ্যালবামটিতে মোট ৯টি গান রয়েছে। গানগুলো হলো—‘অপেক্ষা’, ‘বোকাপাখি’, ‘রঙমিস্ত্রী’, ‘চোখে চোখ’, ‘শবনম’, ‘ব্যথা দিও না’, ‘স্বপ্নের আকাশ’, ‘খেলা’, ‘মা’। গানগুলো লিখেছেন সহজিয়ারই ভোকাল রাজু। অ্যালবামটি প্রকাশ করেছে সাউন্ড মেশিন। এই অ্যালবামটি শ্রোতাদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে তার ব্যতিক্রমী আয়োজনের কারণে। স্বকীয়তার জন্য এরই মাঝে সহজিয়া শ্রোতাদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় ব্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গের সহজিয়া বলল, ‘প্রতিদিনই অনেক মানুষ আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এসবই ইতিবাচক। এমনকি এ কারণে এখনই পরবর্তী অ্যালবাম নিয়ে কাজ শুরু করে দেওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি। আশা করি শ্রোতাদের হতাশ করব না পরবর্তীতেও।’ তবে এই উচ্ছ্বাসের সাথে একটি আফসোসের সুরও পাওয়া গেল সহজিয়ার কাছ থেকে—অনেক জায়গায় তাদের ‘রঙমিস্ত্রী’ অ্যালবামটি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তাই অ্যালবামটি তারা তাদের ওয়েবসাইটে রেখেছে, যেন যে কেউ চাইলে যেকোনো জায়গা থেকে গানগুলো শুনতে পারেন। তাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা www.shohojia.com। সহজিয়ার বর্তমান ব্যস্ততা বিভিন্ন শো নিয়ে। পাশাপাশি চলছে তাদের আগামী অ্যালবামের প্রস্তুতি। এ বছরেই প্রকাশ পেতে পারে সেটি। গানের সহজ রূপটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে সহজিয়াদের পথচলা অবিরাম হোক—এই প্রত্যাশাই সবার। লাইনআপ ভোকাল :রাজু গিটার :সজীব, সৌম বেজ :জাফরি ড্রামস :রাব্বি