মানজুর মুহাম্মদের কাব্যগ্রন্থ ‘চলো জল হয়ে যাই’

‘উত্তপ্ত চেতনার প্রলাপে রাখি সাত আকাশ বরফ’

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৪, ১৭:২৮
চলো জল হয়ে যাই মানজুর মুহাম্মদ প্রচ্ছদ :চারু পিন্টু প্রকাশক : বাতিঘর, চট্টগ্রাম প্রকাশকাল : ২০১৩, মূল্য :২০০টাকা ‘অবশেষে কবির কণ্ঠ ফুঁড়ে বেরুল/এক টুকরো আলোর বিকট চিত্কার—দুলে উঠল পাতাল-পশ্চিম/মুহূর্তে ড্রোনের আকাশ, উষ্ণ প্রহর হল জমাট বরফ—দারুণ হিম/টুপটাপ নিঃশব্দে ঝরে পড়ল দু’চারটি সেই প্রাচীন সত্য/মহাবিশ্বের অমোঘ শিস তুলল পাখিদের কণ্ঠে সেই জানা তথ্য।/দুরন্ত আলোয় বোবা বোকা কবিদের ভীষণ লাগল তাক/অতঃপর কবিদের পরম ব্যর্থতার কবিতা লিখল/কয়েক ডজন কাক।’ এমনি দায় থেকে কবি মানজুর মুহাম্মদ কবিতার কথা রচনা করতে চান। তিনি ‘কবির দায়’ কবিতাটি দিয়ে পুরো কাব্য মহিমা নিয়ে দাঁড়াতে চান। এ কবির প্রতিবাদ, বিপ্লবের আবাহন। এ কারণে কাব্যগ্রন্থ ‘চলো জল হয়ে যাই’ গুরুত্ব নিয়ে পাঠকের সামনে আসে। এর মূল অংশে রয়েছে ৩৪টি কবিতা। এগুলো ছাড়াও ৪৫টি ছোট কবিতা নিয়ে ‘আয়নামহল’, ১৪০টি কবিতা নিয়ে ‘জলপাঠ’, ১২০টি কবিতা নিয়ে ‘তুমিময়’ অংশ ভাগ করা হয়েছে। প্রথম অংশে তিনটি রুবাইয়াতও রয়েছে। ছোট ছোট পঙিক্ততে সাধনার বিপুল ক্রিয়া, কল্পনার সারাংশ। সৃষ্টির উল্লাসে শত শব্দ সুন্দরের টানে হাজির করেছেন কবি। কবিতার এমন অমোঘ ফূর্তি খুব কম কবির কাছে ধরা দেয়। সামাজিক শর্তাবলিকে মেনে যারা জীবনের প্রান্তরেখা ছুঁতে চান, কবি তাদের কাছেও যেতে চান। শুধু মানুষের জন্যই এমন নিটোল ও সুচারু পঙিক্ত। কবিতাও যে এক ধরনের রিপোর্টাজ, তাও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে উপস্থাপন করতে হয়। আবেগ, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে এমন প্রচার পাওয়া যায়। কবি মানজুর মুহাম্মদ এমন বিশ্বাসযোগ্যতায় ভবিষ্যতের কবিতা রচনা করেছেন। ইঙ্গিত করেছেন জীবনের সুর ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের দিকে। তাঁর ব্যাখ্যা অনেকটা এমন : ‘জীবনকে আপেলের মত দু-টুকরো করে দেখলাম/এক টুকরো জীবনের জমিনে/নদীর কল কল ঘুঙুর পরে নাচছে আকাশের চাঁদ/আর এক টুকরোতে/শুয়ে আছে লাল টকটকে অগ্ন্যুত্পাতের কুচকুচে কৃষ্ণদগ্ধ রাত/একদিকে জোছনা—প্রেমের বিলাপ আর পরকীয়া গোলাপের আখ্যান/অন্যদিকে সবুজের স্বপ্ন নিয়ে আমৃত্যু জেগে থাকে কবিতার ব্যর্থ গান/জীবন আপেলের মত নিরাপদ নয়।’ (জীবন আপেলের মত নিরাপদ নয়) ‘চলো জল হয়ে যাই ’ কাব্যগ্রন্থটির মর্যাদা ও চিরন্তনের ফসল আত্মা থেকে মুদ্রিত শব্দকুঞ্জ তৈরির প্রয়াস। বইটি পাঠকমহলে নন্দিত হবে বলেই আমার বিশ্বাস।