বিপদ যখন আসে তখন সব দিক থেকেই আসে!
বর্ষ প্রাচীন এই প্রবাদটির মোক্ষম এক উদাহরণ হল বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চলমান এশিয়া কাপে এক আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বাদে মুশফিকুর রহিমের দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে সামান্যই প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তো নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানই দেখেছিল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার সেই ব্যাটিং নিয়েই উঠলো যত প্রশ্ন।
বাংলাদেশ কাল নির্ধারিত ৫০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে রান তুললো মোটে ২০৪। কিন্তু এর মধ্যে কোন ব্যাটসম্যান পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছাতে পারলেন না। সর্বোচ্চ ৪৯ রান এসেছে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এনামুল হক বিজয়ের ব্যাট থেকে।
ব্যর্থ হয়েছেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঝড়ো ব্যাটে দুই হাফ সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। অনেক দিন ধরে ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা নাসির হোসেন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ফেরার আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব হয়নি। দুইজনের ব্যাট থেকেই এসেছে সাকুল্যে ৩০টি করে রান।
স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা এদিন সবাই একযোগে ব্যর্থ হয়েছেন। তেমনি গোটা দল মিলেই ভাল বল করেছে শ্রীলঙ্কা, স্পিনাররা নিয়েছেন পাঁচটা উইকেট। আর দুই পেসার নিয়েছেন বাকি চারটি।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক ব্যাটিং দেখা গিয়েছিল সর্বশেষ ২০১১ বিশ্বকাপে। এই মিরপুর স্টেডিয়ামে সেই এক ইনিংসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৫৮ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে কেবল জনা দুই ব্যাটসম্যান দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। হাফ সেঞ্চুরি তো অনেক দূরের পথ।
সেই বিশ্বকাপেই নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৮ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ফিফটিহীন সেই ইনিংসটি অবশ্য ছিল রান তাড়া করতে নেমে।
২০১১ সালের মার্চের পর বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়েছে অনেক দূর। এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠা নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জয় - বাংলাদেশ স্থাপন করেছে ক্রমোন্নতির একেকটি মাইলফলক। ২০১১ সালে এক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ বাদ দিলে নিজেদের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের আগে একটা হোম সিরিজেও হারতে হয়নি স্বাগতিকদের। এমনকি শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ড্র করেও ফিরেছিল তারা।
এই চার বছরের মধ্যেও অবশ্য দুইটি ফিফটিহীন ইনিংস ছিল বাংলাদেশের। প্রথমটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ২০১১ সালের ১৮ অক্টোবরের সেই ম্যাচে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ৬১ রানে বেঁধে ফেলেছিল বাংলাদেশ। পরে মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে।
দ্বিতীয়টি এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই। হাম্বানটোটায় সেই ম্যাচেও ডাকওয়ার্থ লুইস আইনে জিতেছিল বাংলাদেশ। ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল সেই সিরিজ।
কিন্তু এসবই এখন অতীত। ২০১১ সালের সেই বিশ্বকাপের মতো আরেকবার লণ্ডভণ্ড হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। মাঠ ও মাঠের বাইরের ঘটনায় বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দল।
সেবারের মতো এবার প্রতীক হয়ে থাকলো ওই ‘ফিফটিহীন ইনিংস’!
