জাকিয়া সুলতানা এবং শিরিন আক্তার ২০০৭ সালে বিকেএসপির অ্যাথলেটিকসে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই থেকে দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের সূচনা। একই ইভেন্টের হওয়ায় দু’জনের মধ্যে জুটি তৈরি হয়। সুলতানা বয়সে একটু বড় হলেও শিরিন আক্তারের সাথে তার সখ্যতা অনেক। দু’জনের মনের মিল দারুণ। কিন্তু এই দু’জনই অ্যাথলেট ট্র্যাকে পরস্পরের শত্রু। ২০০ মিটার ইভেন্টে একজন হয়ে উঠেন আরেক জনের প্রতিদ্বন্দ্বী। ট্র্যাকের বাইরে যতটা ভালো বন্ধু, ট্র্যাকের লড়াইয়ে তার উল্টো। বন্ধু হয়ে যান ভয়ানক শত্রু। জাতীয় অ্যাথলেটিকসের ২০০ মিটার ইভেন্টে রানীর আসনে থাকা বিজেএমসির জাকিয়া সুলতানাকে নামিয়ে কাল সেই জায়গাটা দখল করলেন শিরিন আক্তার।
বিকেএসপির শিরিন তার প্রিয় বান্ধবীকে হারিয়ে একদিকে মহা খুশি। আবার অন্য দিকে প্রাণের সই হেরে গিয়েছে বলেও নাকি তার খারাপ লাগছে। শিরিন বলছিলেন, ‘খারাপ তো লাগবেই। কারণ জাকিয়া এবং আমি খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমাদের চলাফেরা সব কিছু একই সাথে। খেলা হলে আমরা সব সময় ম্যাচিং করে কাপড় পরতাম। একই সৌন্দের্যে অনুকরণ করায় সবাই আমাদেরকে জমজ বলত। বিকেএসপি ছেড়ে বিজেএমসি চলে গেছেন জাকিয়া সুলতানা। আমি এবার বিকেএসপিতে এইচএসসি পরীক্ষা দেবো।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শিরিন আক্তার বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স ভালো হওয়ায় খুশি লাগছে।’ জাতীয় অ্যাথলেটিকসের গত আসরে জাকিয়া সুলতানা স্বর্ণ জয় করেছিলেন। সেবারও তার প্রতিপক্ষ ছিলেন শিরিন আক্তার। হারলেও মনে মনে একটা জেদ কাজ করতো। অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে কিভাবে প্রাণের বান্ধবীকে হারিয়ে জায়গাটা দখল করা যায়, সোনার পদক জয় করা যায়। সেই থেকে নিজেকে তৈরি করতে শুরু করেন শিরিন।
কোচ আব্দুল্লাহ হেল কাফির ঘষামাজায় জাকিয়াকে হারিয়ে সোনার পদক জয় করলেন সাতক্ষীরা সদরের মেয়ে শিরিন। বাবা শেখ আব্দুল মজিদ, মা আঙ্গুরা বেগমের চার কন্যা সন্তানের মধ্যে শিরিন দ্বিতীয়। ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার ইভেন্টে লড়াই করতেন শিরিন। গতকাল দুপুরে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ৩৪তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসের ২০০ মিটার ইভেন্ট শেষে গরমে মাথা ঘুরছিল শিরিনের। হালকা বমি হচ্ছিল তার। ড্রেসিং রুমে গিয়ে ক্ষাণিকটা বিশ্রাম নিয়ে আবার বাইরে এলেন। কেন এমনটা হলো জানতে চাইলে বললেন, ‘বমি হয়নি। মাথা ব্যথা করছিল।’ ২০০ মিটার স্প্রিন্ট শেষ করতে শিরিন সময় নেন ২৪.৯০ সেকেন্ড এবং জাকিয়া সুলতানা সময় নেন ২৫.২৫ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে পুরুষদের মধ্যে নৌবাহিনীর মেজবা আহমেদ (২১.৭৬) স্বর্ণ জয় করেন। মেজবা রিলেতে চার গুনিতক ১০০ মিটার ইভেন্টে স্বর্ণ জয় করেছেন। মহিলা ইভেন্টে পাপিয়া রাণী সরকার স্বর্ণ জয় করেন।
অনেক দিন পর আবার বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটদের ট্র্যাকের লড়াইয়ের আসর বসলো। হাইজাম্পে পাবণী হক, ৪০০ মিটার হার্ডলসে আলমগীর, জ্যাভলিন থ্রোয়ে আজহারুল ইসলাম, পুরুষদের ৫ হাজার মিটার লড়াইয়ে মনিরুল, বর্ষা নিক্ষেপে মনিরুজ্জামান এবং জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় মিরোনা ১৫০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণ জয় করেছেন। জাতীয় অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট শনিবার বিকালে।
