মানসিক সমস্যায় করণীয়

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৪, ১৯:৫৭
বাংলাদেশে পূর্ণ- বয়সীদের মধ্যে শতকরা ১৬.১ ভাগ এবং শিশুদের মধ্যে শতকরা ১৮.৩৫ মানসিকভাবে অসুস্থ। দেশের জনসংখ্যা ষোল কোটির উপরে। কাজেই মানসিক ভাবেঅসুস্থ জনসংখ্যা প্রচুর। এ রোগ থেকে মুক্তির উপায় মানসিক রোগ অন্য দশটি রোগের মতই সাধারণ রোগ। এই রোগীদের প্রয়োজন বিজ্ঞানসম্মত চিকিত্সা। যথাযথ বৈজ্ঞানিক চিকিত্সায় মানসিক রোগী উন্নতি লাভ করে। ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, পাবনা মানসিক হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগ এবং সরকারি মেডিকেল কলেজ সমূহের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে মানসিক রোগের চিকিত্সা পাওয়া যায়। ওষুধের মাধ্যমে চিকিত্সা গুরুতর মানসিক রোগের চিকিত্সায় মানসিক রোগের ডাক্তার বা সাইকিয়াট্রিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করেন। ওষুধের মাধ্যমে উত্কণ্ঠা, বিষন্নতা ও স্কিজোফ্রেনিয়া বা এধরণের সাইকোটিক রোগের চিকিত্সা দেয়া হয়। প্রায় সব ধরণের মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রেই ওষুধের মাধ্যমে চিকিত্সা করা যায়। কাউন্সেলিং বা কথার চিকিত্সা মানসিক রোগের চিকিত্সায় সাইকোথেরাপি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি কথার মাধ্যমে করা হয়। এটি এক ধরণের উন্নত মানের কাউন্সেলিং। সাইকোথেরাপিতে রোগী সাইকোথেরাপিষ্টের সাথে প্রাণ খুলে কথা বলে মন হালকা করেন। তার মানসিক চাপ কমে। এরপর তিনি নিজেই নিজের জীবনের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাইকোথেরাপিকে বলে ইন্ডিভিজ্যুয়াল সাইকোথেরাপি। এখানে সাইকোলজিষ্ট বা মনোবিজ্ঞানীর সাথে যার মানসিক সমস্যা আছে তিনি ব্যক্তিগত পরিবেশে কথা বলেন। দলীয় পরিবেশে সাইকোথেরাপি দেয়াকে বলে গ্রুপ সাইকোথেরাপি। এখানে ১০ -১৫ জন রোগীর সাথে একজন থেরাপিষ্ট বসেন। রোগীরা নিজেরাই নিজেদের সমস্যার কথা বলেন ও সমাধান খুঁজে বের করেন। সাইকোলজিষ্ট পুরো বিষয়টি পরিচালনা করেন। পারিবারিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পরিবারের সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে ফ্যামিলি সাইকোথেরাপি দেয়া হয়। বৈবাহিক সমস্যা সমাধানের জন্য ম্যারিটাল থেরাপি দেয়া হয়। এখানে স্বামী ও স্ত্রীর সাথে ম্যারিটাল থেরাপিষ্ট বসে তাদের কাউন্সেলিং করেন। সাইকোথেরাপির আবার অনেক ধরণ প্রচলিত আছে। যেমন, কগনেটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি, বিহেভিয়ার থেরাপি, ক্লায়েন্ট সেন্টার্ড্ থেরাপি, ডাইনামিক সাইকোথেরাপি, ট্রান্সজ্যাকশনাল অ্যনালাইসিস ইত্যাদি। ভাল থাকার উপায়  বিশ্বাসী কারো সাথে প্রাণ খুলে কথা বলুন। মনের কথা চেপে রাখলে রোগ বাড়ে।  নিজের মনের দ্বন্দ্ধে কথাগুলো বলে ফেলুন, মনের দ্বন্দ্ধে সমাধান করুন বা মেনে নিন।  সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করুন।  নিজের আবেগ, চিন্তা, শারীরিক লক্ষণ ও আচরণ বিষয়ে সচেতন হোন। নিজের পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।  নিজের সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। যারা সামাজিক মানুষ হিসাবে পরিচিত তাদের দেখে ও অনুসরণ করে এটা শেখা যায়।  মাসকুলার রিল্যাক্সেশন বা মেডিটেশন নিয়মিতভাবে করতে হবে  নিঃশঙ্কচিত্তে নিজের আবেগের প্রকাশ ঘটানো। যেমন, মন খারাপ হলে প্রাণ খুলে কাঁদতে পারেন।  ধৈর্য্য রাখা ও মনের মধ্যে ভাল হবার আশা পোষণ করা দরকার। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। শেষ কথা চিকিত্সায় মানসিক রোগী ভাল হয়। তাদের জীবনকে সুন্দর করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। আসুন তাদের জন্য পারিবারিক সমর্থন ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিত্সা নিশ্চিত করি।