পাকিস্তান আর ক্রিকেট শব্দ দুটিকে পাশাপাশি দেখলেই আরেকটি শব্দযুগল চলে আসে—আনপ্রেডিক্টেবল!
এই অননুমেয় স্বভাবটা পাকিস্তান চলতি এশিয়া কাপেও ধরে রেখেছে। শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘জেতা ম্যাচ’ হেরে। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানটান জয় এবং ভারত ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ‘হারা ম্যাচ’ জয়! এ অবস্থায় আবারও এশিয়া কাপটা পাকিস্তানের হাতেই আজ উঠছে বলে কল্পনা করা যেতে পারে। কিন্তু ওই যে সেই আনপ্রেডিক্টেবল দল!
তবে গতকাল ফাইনালপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক বললেন, তারা অন্তত কোনো ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে নেই। তারা মনে করছেন, চ্যাম্পিয়ন হতে যেমন দরকার, তেমন প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছেন তারা, ‘সবকিছু বিবেচনা করে আমরা যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি এবং ফাইনালের জন্য পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছি। সর্বশেষ দুটি ম্যাচ আমরা যেভাবে জিতেছি তাতে দলের মনোবল এখন অনেক বেশি। দল পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। আমরা ইতিবাচক খেলা এবং ভাল ক্রিকেট চালিয়ে যেতে আশাবাদী। আপনি যদি ভাল ক্রিকেট খেলতে পারেন সেক্ষেত্রে ফলাফলটা আপনার পক্ষে আসবে।’
এই ভালো ফলাফলটা আসার একটা বড় উপায় হল আফ্রিদির গত দুই ম্যাচের মতো ফর্মে থাকা। মিসবাহ বিশ্বাস করেন, সেই সার্ভিস তিনি আফ্রিদির কাছ থেকে পাবেন। যদিও আফ্রিদির ইনজুরি নিয়ে শঙ্কা আছে, কিন্তু মিসবাহ আশাবাদী, ‘অবশ্যই আফ্রিদির উপস্থিতি একটি পার্থক্য তৈরি করে। শুধু আফ্রিদিই নয়, দলের সব সদস্যই ভাল পারফরমেন্স দেখাচ্ছেন। জেতার আকাঙ্ক্ষা আছে সবার। আমরা তাকে দলে পাওয়ার আশা রাখছি এবং একই সাথে সে যদি নাও খেলতে পারেন আমাদের বিকল্প কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন যারা ম্যাচ জেতাতে পারে। এই মুহূর্তে আফ্রিদি অনেক ভাল খেলছে। প্রতিপক্ষের ওপর এবং নিজ দলে তিনি যে ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করছেন তার অবশ্যই খেলা উচিত। ইনজুরি খেলার একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা দেখব আগামীকাল ও কী অবস্থায় থাকে। তারপরই একটা সিদ্ধান্ত নেব।’
আফ্রিদি ছাড়াও এই ম্যাচটা হয়ে উঠতে পারে দুই ইনফর্ম ও সেরা স্পিনার সাঈদ আজমল ও অজন্তা মেন্ডিসের লড়াই। উপমহাদেশের এই কন্ডিশনে এই স্পিনারের মধ্যে যে লড়াইটা জমবে, সেটা মিসবাহও মনে করছেন, ‘দু’ দলের জন্যই এ দু’জন গুরুত্বপূর্ণ বোলার। আজমলের বলে বৈচিত্র্য আছে, কঠিন পরিস্থিতিতে ভাল বোলিং করার অভিজ্ঞতাও আছে। ও তো বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সত্যি আমরা আজমলের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করবো। মেন্ডিসও অনেক ভাল নৈপুণ্য দেখাচ্ছে। আসলে যে দলটি প্রতিপক্ষের মূল বোলারকে ভালভাবে সামাল দিতে পারবে তারাই ম্যাচ জিতবে।’
মেন্ডিসের মতোই মিসবাহ মনে করছেন, শ্রীলঙ্কার আরও দুই তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন সাঙ্গাকারা ও মালিঙ্কা। সাঙ্গাকারাকে সামলানোটা যে চ্যালেঞ্জ হবে এবং সে জন্য তারা বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সেটা জানালেন। তবে মালিঙ্গার ব্যাপারে মিসবাহরা এমনিতেই বেশ আশাবাদী। সম্প্রতি তাকে ভালো খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই আশাবাদী মিসবাহ।
তবে সবমিলিয়ে শ্রীলঙ্কাকে আজ ফাইনাল জয়ের পথে দারুণ প্রতিপক্ষ বলে মনে করছেন মিসবাহ। টানা দুটি ফাইনাল জেতা যে সহজ হবে না, সেটাই মনে করিয়ে দিলেন কাল পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘শ্রীলঙ্কা সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ বিশেষ করে ফাইনালে। কারণ তারা তাদের মৌলিক বিষয়গুলোর সঠিক প্রয়োগ করতে পারে এবং সবসময় সংগ্রাম করতে পারে। আমাদের অবশ্যই অনেক ভাল ক্রিকেট খেলতে হবে। ভাল কিছু করে দেখানোর জন্য আমাদের শতভাগ উজার করে দিয়ে নামতে হবে। উচিত হবে সবকিছু সঠিকভাবে করার এবং আগের ম্যাচগুলোয় যেমন করেছি সেভাবেই নিজেদের মৌলিক বিষয়গুলোর সঠিক প্রয়োগ ঘটাতে হবে। ইনফর্ম ব্যাটসম্যান সবসময়ের জন্যই অপরিহার্য একটা অংশ। কিন্তু ইনজুরি খেলার অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ। যদি কেউ না খেলতে পারেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের অন্য কাউকে নিতে হবে যে একই দায়িত্ব পালনে সক্ষম।’
