‘অগ্রগতির মূল কথা, নারী-পুরুষ সমতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এসিড সহিংসতাসহ নারীর প্রতি সকল ধরনের নির্যাতনের প্রতিবাদে ও ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবী জানান। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন এসিড সহিংসতার শিকার ভাই-বোনেরা, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, এএসএফ’এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, এএসএফ’এর নির্বাহী পরিচালকসহ কর্মীরা।
বক্তারা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এসিড সন্ত্রাসের ঘটনায় সারা দেশে মামলা হয়েছে ১৮৯১টি। মোট মামলায় অভিযুক্ত ৪৯২৬ জন। এর মধ্যে ৫৯০ জন (মাত্র ১২ শতাংশ) গ্রেফতার হয়েছে। বাকি ৮৮ শতাংশ অভিযুক্ত পুলিশের ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে। পুলিশ ১১২৮টি মামলায় অভিযোগপত্র এবং ৭৫৩টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। ৫১০টি মামলায় ১৬৮৭ জন অভিযুক্ত খালাস পেয়েছে। সাজা হয়েছে এমন মামলার সংখ্যা মাত্র ১৭২টি। সাজার হার শতকরা ৯ ভাগ। মোট সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২৯৩ জন (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ জন, যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ১০৮ জন এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭২ জন)।
এএসএফ’র নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ বলেন, সরকার প্রণীত আইন, এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ কমিটি থাকা সত্ত্বেও এসিড সন্ত্রাস বন্ধ এবং এসিডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব হয়নি। এসিডের অপব্যবহার রোধ এবং এসিড সারভাইভারদের সুবিচার নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন কার্যকর ভূমিকা, দক্ষ জনবল এবং সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয়।
এসিড সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায় বিচারের নিশ্চিতের লক্ষ্যে বক্তারা ১৩ দফা দাবি জানিয়ে বলেন, এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ এবং এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০২ এর কঠোর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে তদন্তকার্য ও বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। মামলা পরিচালনায় সরকারি কৌশলী, তদন্ত ও বিচারকার্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দুর্নীতি পরিহার করে সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে। হাইকোর্টে মামলাগুলো দ্রুত সুরাহার ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেয়া এবং রায়- এর ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এএসএফ’এর তথ্য মতে ১৯৯৯ সাল থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৪ পর্যন্ত ৩১৮৪টি এসিড সহিংস ঘটনায় ৩৫১২ জন আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে নারী ১৭৯২ জন নারী, পুরুষ ৮৬৫ জন এবং শিশু ৮৪৫ জন।
