গঙ্গাচড়ায় অন্ধ মুক্তিযোদ্ধার দুর্দিন

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৪, ২১:৫৭
দরিদ্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মুক্তিযোদ্ধা আজিজুলের সংসারে চলছে বড়ই দুর্দিন। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে দুটি চোখই হারান এই মুক্তিযোদ্ধা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষনে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধে যান আজিজুল। তখন টগবগে যুবক। প্রাইমারী পাস করার পর সংসারের কাজ দেখাশুনা করছিলেন। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক গ্রামে আজিজুলের বাড়ি। যেটুকু জমি ছিল তাও তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায়। সেই থেকে নিঃস্ব হয়ে যায় আজিজুল। মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনতে গিয়ে আজিজুল শোনান তার কষ্টের কাহিনী। অন্ধ মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল বলেন, ৬নং সেক্টরে কমান্ডার জয়দেব কুমারের নেতৃত্বে নীলফামারী জেলার চিলাহাটি, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও বড়খাতা এলাকায় যুদ্ধ করেন। অন্ধ হওয়ার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে পাসের সহযোদ্ধার মাথায় বোম এসে ফুটলে তার গ্যাস এসে দুটি চোখের ভিতরে ঢেকে। তখন থেকে তিনি ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যান। বহু চিকিত্সা করিয়েছেন কোন কাজ হয়নি। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না। তার ২ ছেলে ১ মেয়ে। বড় ছেলে রফিকুল চাকরি করলেও বিয়ে করে অন্যত্র থাকে। ছোট ছেলে রবিউল গার্মেন্টেসে কাজ করে। তবে কেউ তার খোঁজ-খবর নেয় না। অভাব-অনটনের সংসার। ক্ষুধায় ক্ষুধায় শীর্ণ হয়ে আসছে আজিজুলের শরীর। রোগ-ব্যাধিও দানা বাঁধছে শরীরে। সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৩ হাজার টাকা। এ টাকাই তার সম্বল।