বোলিং আর ফিল্ডিংয়েই ডুবেছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৪, ২২:২৮
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা রান সংগ্রহ বাংলাদেশের টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী প্রথম চারজনের দুইজন বাংলাদেশি সেরা সাতটি ইনিংসের দুটিই বাংলাদেশের এই চারটি লাইনই আসলে বলে দেয় বাংলাদেশের শূন্য হাতে দ্বাদশ এশিয়া কাপ শেষ করার জন্য আর যাই হোক, ব্যাটিংটা দায়ী নয়। খুব ধারাবাহিক না হলেও প্রায় প্রতি ম্যাচে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা রান পেয়েছেন। শেষ ম্যাচটা ছাড়া প্রতি ম্যাচে দু’-চারটে বড়-মাঝারি ইনিংস এসেছে টপ অর্ডার থেকে। ব্যাটসম্যানদের এই পারফরম্যান্সের পরও দলের প্রাপ্তির ভারটা শূন্য থাকার কারণ বোঝা যাবে, বোলিং বিশ্লেষণে চোখ বোলালেই। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর দাঁত বসিয়েছেন, এমন কোনো বোলারই খুঁজে পাবেন না। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন দুই ম্যাচ খেলা আরাফাত সানি এবং একেবারেই পার্টটাইম বোলার মুমিনুল হক। তার মানে, হিসাব পরিষ্কার—দলের আক্রমণভাগের আগে থাকা বোলাররা কেউ সফল হননি। ফিল্ডিংয়ে দলের অধারাবাহিকতা পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো শক্ত। কারণ সেখানে ক্যাচ নেয়াটা লেখা থাকলেও গন্ডায় গন্ডায় ক্যাচ ফেলাটা লেখা থাকে না। প্রায় প্রতিটা ম্যাচে বাংলাদেশি ফিল্ডারদের হাত থেকে যে পরিমাণে ক্যাচ ফেলেছে, বোলাররা বলতে পারেন, তাদের ব্যর্থতার কারণ আসলে ফিল্ডিং মিসই! ব্যাটিং দিয়ে শুরু করা যাক। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ‘নিউক্লিয়াস’ হয়ে ছিলেন এনামুল হক বিজয় ও মুশফিকুর রহিম। দু’ জনই একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন। ভারতের বিপক্ষে ফিফটি দিয়ে শুরু করেছিলেন বিজয়, পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি এবং শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৯ রানের ইনিংস মিলিয়ে ৪ ম্যাচে ৫৬.৭৫ গড়ে ২২৭ রান করে গতকাল পর্যন্ত টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা রান সংগ্রাহক বিজয়; ২৪৮ রান নিয়ে সর্বোচ্চ জায়গাটা ধরে রেখেছেন সাঙ্গাকারা। বিজয়ের চেয়েও মুশফিকের আবার গড় ও স্ট্রাইকরেট অনেক বেশি। ৬৫ গড়ে ১৯৫ রান করে গতকাল পর্যন্ত চার নম্বরে ছিলেন মুশফিক। তিনি ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ঝড়ো এক ফিফটি করে ফর্ম ধরে রেখেছেন। এছাড়াও দুটি ফিফটি করা মুমিনুল হকও আছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায়। এর মাঝে এক ম্যাচ খেলেই ফিফটি করা ইমরুল, ঝড় তোলা সাকিবরা তো আছেনই। কিন্তু এইসব পরিসংখ্যানের বিপরীতে একেবারে দীনহীন অবস্থা বোলারদের। আগেই বলা হয়েছে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেরা বোলার হচ্ছেন মুমিনুল ও আরাফাত সানি; যারা কেউই ফ্রন্টলাইন বোলার নন। এরা পেয়েছেনও মাত্র ৩টি করে উইকেট। যেখানে গতকাল পর্যন্তই মেন্ডিস, অশ্বিন ও শামি ৯টি করে এবং আজমল ৮টি উইকেট নিয়েছেন! বাংলাদেশের মূল বোলার বলে বিবেচিত রাজ্জাক, রুবেল ও আল আমিন পেয়েছেন ২টি করে উইকেট। আর অলরাউন্ডার জিয়া ও মাহমুদউল্লাহর শিকারও ২টি করে উইকেট। এরা দু’ জন আবার পুরো টুর্নামেন্ট বল করারই সুযোগ পাননি! তাহলে মীমাংসা দাঁড়ালো এই যে, যাদের ওপর মূল ভরসা ছিল বা স্ট্রাইক বোলার যারা, সেই রাজ্জাক-রুবেলরা চরম হতাশ করেছেন দলকে। শুধু উইকেট নেয়ার দিক থেকে নয়, দু’ হাতে রান খরচ করেও এরা দলকে বিপাকে ফেলেছেন। এই পরিসংখ্যানের বাইরে আরেকটা ব্যাপার মাথায় রাখা দরকার—যতই রাজ্জাক-রুবেলদের আমরা স্ট্রাইক বোলার বলি, আসলে বাংলাদেশের বোলিং ভার টানতে হয় সাকিব আল হাসানকেই। সেই সঙ্গে ইনজুরিকে হারিয়ে দলে ফিরতে পারলেই দায়িত্বটা ভাগ করে নেন মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে সাকিব প্রথম দুই ম্যাচ এবং ইনজুরির কারণে মাশরাফি শেষ দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি। তাহলে এদের অনুপস্থিতিই কী ভাগ্য ঠিক করে দিলো? এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ব্যাটিং ব্যাটসম্যান ম্যাচ রান সেরা গড় ১০০/৫০ এনামুল হক ৪ ২২৭ ১০০ ৫৬.৭৫ ১/১ মুশফিকুর রহিম ৪ ১৯৫ ১১৭ ৬৫.০০ ১/১ মুমিনুল হক ৪ ১২৫ ৫১ ৩১.২৫ ০/২ নাসির হোসেন ৩ ৭২ ৪১ ২৪.০০ ০/০ জিয়াউর রহমান ৩ ৭১ ৪১ ২৩.৬৬ ০/০ সাকিব আল হাসান ২ ৬৪ ৪৪* ৬৪.০০ ০/০ ইমরুল কায়েস ১ ৫৯ ৫৯ ৫৯.০০ ০/১ বোলিং বোলার ম্যাচ রান উইকেট সেরা ইকোনমি আরাফাত সানি ২ ৯০ ৩ ২/৪৪ ৫.২৯ মুমিনুল হক ৪ ৮৮ ৩ ২/৩৭ ৪.১৯ আবদুর রাজ্জাক ৩ ১৮৪ ২ ১/৫৫ ৬.৩৪ আল আমিন ২ ৯২ ২ ২/৪২ ৫.৪৬ মাহমুদউল্লাহ ২ ৭৭ ২ ১/৩০ ৫.৯২ রুবেল হোসেন ৩ ১৪৯ ২ ১/৬১ ৫.৭৩ জিয়াউর রহমান ৪ ৯৩ ২ ১/২০ ৪.১৯