জোয়েল গার্নার-মাইকেল হোল্ডিংদের যুগ পার হয়েছে অনেক কাল হল। ওয়াসিম আকরাম, কোর্টনি ওয়ালশ, গ্লেন ম্যাকগ্রারাও অবসর নিয়েছেন অনেকদিন হল। স্বর্ণালী ফাস্ট বোলিং জমানার সেই তাণ্ডব বর্তমান ক্রিকেটে এখন তাই অনেকটাই অনুপস্থিত। কিন্তু এর মধ্যেও টুকটাক অতিমানবীয় ব্যাপার-স্যাপার ঘটে যায়। আর যাদের কল্যাণে ক্ষণিকের জন্য হলেও ফিরে আসে ফাস্ট বোলারদের স্বর্ণযুগ। তাদের একজন লাসিথ মালিঙ্গা।
গতকাল শনিবার এশিয়া কাপের ফাইনালে লঙ্কান এই পেসারের সৌজন্যে আরেকবার ফিরে আসলো প্রতাপশালী ফাস্ট বোলিংয়ের ভূত। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেন হয়ে গেল কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড।
আর মিরপুরের ব্যাটিং সহায়ক পিচকে ব্যাটসম্যানদের জন্য মিরপুরের মাঠকে একাই মৃত্যকূপে পরিণত করলেন লাসিথ মালিঙ্গা। সেটাও দিনের সেই প্রথম ওভার থেকেই। দুটি চার মেরেই ততক্ষণে দারুণ এক সূচনার আভাস দিচ্ছিলেন পাকিস্তানি ওপেনার শারজিল খান।
কিন্তু শেষ বলে এসেই বিধি বাম। ক্লিক করতে গিয়ে ক্যাচ চলে গেল মিড অনে। এখান থেকেই শুরু। মালিঙ্গার পরের দুটি ওভারে আসলো আরও দুই উইকেট। আর এই দুই উইকেটের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। কারণ, এরা দুইজন হলেন ফাইনালে আসার পথে পাকিস্তানের দুই নায়ক আহমেদ শেহজাদ ও মোহাম্মদ হাফিজ। দুইজনই উইকেটের পিছনে কুমার সাঙ্গাকারার হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় হয়েছেন।
চার ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ১৩ রান দিয়ে নেয়া এই চার উইকেটেই ধসে গেল পাকিস্তানের টপ অর্ডার। এরপর দীর্ঘ একটা বিরতি। যখন ফিরলেন ততক্ষণে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১২২ রান তুলে বিপদ কাটিয়ে উঠেছেন অধিনায়ক মিসবাহ উল হক ও ফাওয়াদ আলম।
মালিঙ্গাও তো চুপ করে বসে থাকার পাত্র নন। ৩৭তম ওভারে ফিরেই তুলে নিলেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা মিসবাহকে। ৬৫ রানে আউট হয়ে গেলেন মিসবাহ।
দুই ওভারের পর আবারও ছোট একটা বিরতি। শেষ স্পেলে এসে অবশ্য নামের প্রতি ঠিক সদ্ব্যবহার করতে পারেননি মালিঙ্গা। নিজের করা শেষ চার ওভারে দিয়েছেন ৩৬ রান। আর তাতে পাকিস্তান পাঁচ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২৬০ রান। যদিও শেষ ওভারে উমর আকমলকে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তান ইনিংসের পাঁচটি উইকেটই নিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই পেসার।
এশিয়া কাপে সর্বশেষ মালিঙ্গার এমন তাণ্ডব দেখা গিয়েছিল উদ্বোধনী ম্যাচেই; এই পাকিস্তানের বিপক্ষে। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে তার নেয়া পাঁচ উইকেটে খাদের কিনারা থেকে দলকে ফিরিয়ে জয় এনে দেন মালিঙ্গা। পরের দুটি ম্যাচে দেখা যায়নি তার ঝলক। বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ছিলেন বিশ্রামে।
অবশেষে ফিরলেন বড় ম্যাচ দিয়েই। মিরপুর হয়ে উঠলো ব্যাটসম্যানদের মৃত্যুকূপ!
রোল অব অনার
সাল চ্যাম্পিয়ন রানারআপ ভেন্যু
১৯৮৪ ভারত শ্রীলঙ্কা সংযুক্ত আরব আমিরাত
১৯৮৬ শ্রীলঙ্কা পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা
১৯৮৮ ভারত শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ
১৯৯০-৯১ ভারত শ্রীলঙ্কা ভারত
১৯৯৫ ভারত শ্রীলঙ্কা সংযুক্ত আরব আমিরাত
১৯৯৭ শ্রীলঙ্কা ভারত শ্রীলঙ্কা
২০০০ পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ
২০০৪ শ্রীলঙ্কা ভারত শ্রীলঙ্কা
২০০৮ শ্রীলঙ্কা ভারত পাকিস্তান
২০১০ ভারত শ্রীলঙ্কা শ্রীলঙ্কা
২০১২ পাকিস্তান বাংলাদেশ বাংলাদেশ
২০১৪ শ্রীলঙ্কা পাকিস্তান বাংলাদেশ
