সত্তরের দশকে কেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রচলন ছিল না তাতে সবচেয়ে বেশি আফসোস হয়তো করবেন তারিক আলম!
কেমন একটা খটকা লাগছে তো! ঘটনা হল, সত্তরের দশক থেকে শুরু করে নব্বই দশক পর্যন্ত করাচির নাজিমাবাদ ঈদগাহ মাঠে সুপার কাপ নামে ২০ ওভারের এক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের চলছিল। সেখান থেকে উঠে এসেছিলেন সিকান্দার বখত, মহসিন খান, সাঈদ আনোয়ার, মঈন খানের মতো ক্রিকেটাররা। এই টুর্নামেন্টের সর্বশেষ আসরের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তারিক আলম। ওভারপ্রতি ১০-১২ করে রান তোলার জন্য তার সেসময় বেশ নামডাক ছিল।
কিন্তু, ১০৯টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেললেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা স্বপ্নই থেকে যায় করাচির এই ক্রিকেটারের। বাবার হারিয়ে যাওয়া সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন ছেলে ফাওয়াদ আলম। আর পাকিস্তানি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের ব্যাট যেভাবে দিনের পর দিন ঝলসে উঠছে তাতে সহজেই অনুমান করা যায় যে, হারিয়ে যেতে আসেননি তিনি।
অথচ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল শূন্য দিয়ে। ২০০৭ সালে আবুধাবিতে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোন রান না করেই আউট হয়ে গিয়েছিলেন ফাওয়াদ। এরপর কখনও দলে থিতু হতে পারেননি। এক বছর বাদে এশিয়া কাপে এসে দুর্বল দল হংকংয়ের বিপক্ষে পেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি।
দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি আসলো আরও দুই বছর বাদে। ক্রমেই দলে জায়গা ধরে রাখাটা কষ্টকর হয়ে উঠছিল ফাওয়াদের জন্য। ২০১০ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পর অফ ফর্মের কারণে হারালেন দলের জায়গা।
এরপর টানা তিন বছর দলের বাইরে। ডাক পেলে এবারের এশিয়া কাপে এসে। প্রথম দুই ম্যাচে দলে ছিলেন না। কিন্তু প্রথম যখন সুযোগ পেলেন তাতেই বাজিমাত করলেন ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তার ৭৪ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩২৬ রান তাড়া করে জিতে পাকিস্তান। সাথে সাথে নিশ্চিত হয় ফাইনাল। প্রত্যাবর্তনেই অন্য ফাওয়াদকে দেখলো মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
যদিও আসল ঝড়টা জমা ছিল ফাইনালের জন্য। যখন ব্যাট করতে নেমেছিলেন তখন লাসিথ মালিঙ্গার বিস্ফোরক বোলিংয়ে মাত্র ১৮ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল পাকিস্তান। প্রথম বিপদ কাটালেন অধিনায়ক মিসবাহ উল হকের সাথে ১২২ রানের পার্টনারশিপে।
৬৫ রানে মিসবাহ যখন আউট হলেন তখনও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। শেষটায় উমর আকমলের সাথে মাত্র ১৩ ওভারে যোগ করলেন ১১৫ রান। বিজয়ীর বেশে শহীদ আফ্রিদির সাথে যখন ৫০ ওভার শেষে বের হয়ে আসলেন ততক্ষণে নামের পাশে যোগ হয়ে গেছে ১১৪ রান। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কা।
দলকে লড়াই করার পুঁজি এনে দেয়ার পর বলেন, ‘আমরা বড় বিপদে পড়েছিলাম। মিসবাহ আমাকে বলেছিল উইকেটে টিকে থাকতে। আমি ভাবছিলাম কি করে পুরো পঞ্চাশ ওভার টিকে থাকা যায়।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ বাঁচানো ইনিংসের পর বলেছিলেন, ‘আমার কাছে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটাই চ্যালেঞ্জ। স্ট্রাইক রেট ধরে রেখে নিয়মিত রান পেতে চাই।’ সেই কথা রাখলেন ফাওয়াদ আলম। এবার হয়তো দলের জায়গা ধরে হারানোর শঙ্কায় আর ভুগবেন না।
